সারাদেশ

কাশিমপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির স্থাপনা ভাঙতে এক্সকাভেটর, মালিকের বাধা

পূর্বনির্ধারিত সীমানা না মেনে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রিন্ট
কাশিমপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির স্থাপনা ভাঙতে এক্সকাভেটর, মালিকের বাধা
⌖ গাজীপুর সদর
গাজীপুরের কাশিমপুরের বারেন্ডা এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে। পূর্বনির্ধারিত সীমানা না মেনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় জমির মালিক হেলাল মন্ডলের জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্ধারিত সীমানা অনুসরণ না করে হেলাল মন্ডলের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।এরই ধারাবাহিকতায় আজ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লোকজন একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) নিয়ে ওই এলাকায় যান। তারা হেলাল মন্ডলের জমিতে থাকা স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নিলে জমির মালিক হেলাল মন্ডল এতে বাধা দেন।

এ সময় তিনি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক কোনো স্থাপনা ভাঙা বা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ার দাবি জানান।জমির মালিক হেলাল মন্ডল বলেন, “রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আমরা সেটি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেই সীমানা না মেনে আমার জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ সিটি করপোরেশনের লোকজন ভেকু নিয়ে এসে আমার জমির স্থাপনা ভাঙতে গেলে আমি বাধা দিই।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা রাস্তা নির্মাণের বিরোধিতা করছি না। এলাকার মানুষের জন্য রাস্তা প্রয়োজন হলে রাস্তা হোক। কিন্তু আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে জোর করে রাস্তা নেওয়া যাবে না। রাস্তার জন্য জমি প্রয়োজন হলে রাস্তার দুই পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় জায়গা নেওয়া হোক।”

হেলাল মন্ডল বলেন, “আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না। আমাদের দাবি হচ্ছে, অন্যায়ভাবে বা জোরপূর্বক আমাদের জমি রাস্তার জন্য নেওয়া যাবে না। আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করেই রাস্তা নির্মাণ করা হোক।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, রাস্তার জন্য আগে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে সেই সীমানা পরিবর্তন করে কেন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এলাকার উন্নয়নের জন্য রাস্তা দরকার। কিন্তু রাস্তা করতে গিয়ে একজনের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধ তৈরি হবে। আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করা উচিত।”


আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার জন্য জমি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। কারও জমিতে ভেকু নিয়ে গিয়ে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। পূর্বনির্ধারিত সীমানা অনুসরণ না করে নতুন করে জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

জমির মালিকদের বক্তব্য, তারা রাস্তা নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। রাস্তার প্রয়োজন হলে পূর্বনির্ধারিত সীমানা অনুসরণ অথবা রাস্তার দুই পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য