সারাদেশ

বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ, পাশের পুকুরে মিলল দুই বছরের সাইফার নিথর দেহ।

মুহূর্তের অসতর্কতায় নিভে গেল শিশুর জীবন, সাইফার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার।

⎙ প্রিন্ট
বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ, পাশের পুকুরে মিলল দুই বছরের সাইফার নিথর দেহ।
প্রতিনিধি :- লিটন সিকদার
⌖ কোটালীপাড়া

মায়ের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল মাত্র দুই বছরের শিশু সাইফা খানম। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছাগলকে গাছের পাতা খাওয়াচ্ছিল সে। চারপাশে ছিল পরিচিত পরিবেশ, আর মায়ের স্নেহমাখা উপস্থিতি। কিন্তু একটি ফোনকলের কারণে মা সামান্য সময়ের জন্য ঘরে যাওয়ার পরই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক ঘটনা। মায়ের চোখের আড়াল হতেই নিখোঁজ হয়ে যায় ছোট্ট সাইফা। পরিবারের সদস্যদের উদ্বিগ্ন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি শিশুটিকে। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র দুই বছরের শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির উঠানে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল শিশু সাইফা খানম। এ সময় তার বাবা ফাহিম খানের ফোন আসে। ফোনে কথা বলার জন্য মা ঘরের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে মেয়েকে আর দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে সাইফাকে পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী মুরাদ খান জানান, সকালে সাইফা তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির উঠানে ছিল। শিশুটির বাবা ফোন করায় মা ঘরে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর সাইফাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল ছোট্ট সাইফা। যে শিশুর হাসি-খেলায় প্রতিদিন মুখর থাকত বাড়ির আঙিনা, তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই থমকে গেছে পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একটি অসতর্ক মুহূর্ত যে একটি পরিবারের জীবনে কত বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে, সাইফার এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই বেদনাদায়ক উদাহরণ। ছোট শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুকুর, জলাশয় ও পানির উৎসের আশপাশে বাড়তি সতর্কতা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে ঘটনাটি।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য