সারাদেশ

মধুমতির ভাঙনে হুমকিতে চর-মধুপুর, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মধুমতির ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে চর-মধুপুর, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

⎙ প্রিন্ট
মধুমতির ভাঙনে হুমকিতে চর-মধুপুর, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
প্রতিনিধি :- লিটন সিকদার
⌖ কালিয়া
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার গহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-মধুপুর গ্রামে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার শত শত পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় একের পর এক বসতভিটা ও শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে শেষ আশ্রয়স্থল। ফলে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন ভাঙনকবলিত মানুষ।
এ অবস্থায় নিজেদের বসতভিটা ও অবশিষ্ট কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মোঃ হিটু মল্লিক, মোঃ মিজান মল্লিক, কুল মল্লিক, অ্যাডভোকেট গাউস মল্লিক, মোঃ কুদ্দুস মল্লিক, স্বপ্না বেগম ও মোসাম্মৎ মমতাজ বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে চর-মধুপুর গ্রামের মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একসময় পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোঃ মিজান মল্লিক বলেন, নদীভাঙনে অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে গ্রামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অ্যাডভোকেট গাউস মল্লিক বলেন, নদীভাঙনের কারণে এলাকার শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। ভাঙন এলাকার কাছাকাছি গেলেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না খানম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ঘর নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, এমনকি এক শতক জমিও নেই। এভাবে আমরা কীভাবে বাঁচব?”
মোঃ হিটু মল্লিক বলেন, নদীভাঙন বন্ধ হলে এলাকার মানুষ তাদের বসতভিটা ও জীবিকার অবলম্বন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই আর কোনো পরিবার যেন ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব না হয়, সে জন্য দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য