অপরাধ

কুষ্টিয়ার পদ্মানগরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

কুষ্টিয়ার পদ্মানগরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

⎙ প্রিন্ট
কুষ্টিয়ার পদ্মানগরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি সংগৃহীতঃ
# কুষ্টিয়ার পদ্মানগরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ⌖ কুমারখালী
কুষ্টিয়ার পদ্মানগরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ‘উজ্জ্বল মণ্ডল বাহিনী’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবিকুষ্টিয়া প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মানগর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে যুবসমাজের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পদ্মানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. উজ্জ্বল মণ্ডল। এলাকাবাসীর কেউ কেউ তাকে ‘উজ্জ্বল মণ্ডল বাহিনী’র প্রধান হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।বিএনপির নাম ব্যবহারের অভিযোগস্থানীয়দের দাবি, উজ্জ্বল মণ্ডল বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।তবে স্থানীয় বিএনপির কোনো পদে উজ্জ্বল মণ্ডল রয়েছেন কি না, কিংবা তার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা যায়নি।মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগস্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পদ্মানগর ও আশপাশের এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা, প্যাথিডিন, ট্যাপেন্টাডল, আইস, হেরোইন ও মদসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। এতে বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।তাদের দাবি, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান, মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।কয়েকজনকে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগএলাকাবাসীর অভিযোগে মো. জাহাঙ্গীর, মো. সাগর মণ্ডল ও মো. আলমগীর নামে তিনজনকে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা উজ্জ্বল মণ্ডলের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।এছাড়া উজ্জ্বল মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাবেদ রিয়াজ তার শ্বশুর হওয়ায় উজ্জ্বল প্রভাব খাটান বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগস্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হরিনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্যকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে মাদক কারবারিরা আইনের আওতা এড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, উজ্জ্বল মণ্ডলের চাঁদা আদায়ের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তিনি আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা যায়নি।২৫ জনের নামের তালিকা প্রকাশএদিকে পদ্মানগর এলাকায় মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ২৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় প্রত্যেকের নাম, বয়স, পিতার নাম এবং কোন ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে তারা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে, তা উল্লেখ রয়েছে।তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. উজ্জ্বল মণ্ডল, মো. রুবেল, মো. রজু মণ্ডল, মো. সাঞ্জু মণ্ডল, মিজানুর মণ্ডল, মো. টিপু মণ্ডল, মো. রাজু মণ্ডল, মো. শাহিন মণ্ডল, অন্তর মণ্ডল, মো. হৃদয়, মো. রাকিবুল, মো. আকাশ, মো. সজিব মণ্ডল, মো. রাকিব শেখ, মো. ফারুক, মো. কদম মোল্লা, মো. সজিব ফরাজী, মো. সৌরভ ফরাজী, মো. আবু ফরাজী, মো. হাসিব বিশ্বাস, মো. তুষার সরদার, মো. আবির সরদার, আশরাফুল, মো. আহাদ ও পান্না লাল।তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, প্যাথিডিন, ট্যাপেন্টাডল, আইস ও মদ সেবনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শুধু স্থানীয়দের দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবিস্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, পদ্মানগর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য