অন্যান্ন

নারী উদ্যোক্তার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা

সহজ শর্তে ঋণ ও চাকরির প্রলোভনে নিঃস্ব একাধিক পরিবার; জড়িত চালক সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনার দাবি

⎙ প্রিন্ট
নারী উদ্যোক্তার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা
নারী উদ্যোক্তার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা
⌖ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
নারী উদ্যোক্তার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা


​মোঃ রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো 
সফল নারী উদ্যোক্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি, সহজ শর্তে কোটি টাকার ঋণ ও নতুন পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মোসা: রাজিয়া বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌমহনী গ্রামের বাসিন্দা রাজিয়া বেগমের প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন একাধিক সাধারণ ও নিরীহ মানুষ।
​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত রাজিয়া বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ও সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। পরবর্তীতে ব্যাংকিং জটিলতা ছাড়াই কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করানো কিংবা সরকারি-বেসরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। ঋণের জামানত ও প্রসেসিং ফি হিসেবে তিনি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। প্রলোভন ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে তিনি ভুক্তভোগীদের নিজের স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প প্রদান করতেন।
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছাম্মদ মামুন ঝেরা রাজিয়া বেগমের কথামতো ১০ লাখ টাকা তাঁর হাতে তুলে দেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ঋণ বা মূল টাকা—কোনোটিই ফেরত পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে পরবর্তীতে মামুন ঝেরা আদালতে চেক প্রতারণার মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
​একই কৌশলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মোছাম্মদ জান্নাতুল নিসার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোছাম্মদ রাশিদা বেগমকে ঋণ পাইয়ে দিয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। রাজিয়ার পরামর্শে রাশিদা বেগম তাঁর আগের পুরনো বাড়িটি ভেঙে ফেলেন। বর্তমানে তিনি টাকা ও বাড়ি উভয়ই হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
​অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতারণা চক্রের সাথে মোঃ আসাদুল নামে এক হাইস গাড়ি চালক সরাসরি জড়িত। রাজিয়ার সার্বক্ষণিক সহযোগী হিসেবে আসাদুল ভুক্তভোগীদের কাছে যাতায়াত করতেন এবং কৌশলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সহায়তা করতেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
​প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত রাজিয়া বেগম ও তাঁর সহযোগী আসাদুলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য