জাতীয়

শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রিন্ট
শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
# স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে শিশুর পুষ্টির প্রধান উৎস হওয়া উচিত মায়ের দুধ। বিশেষ করে প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে উচ্চমাত্রার প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধী উপাদান থাকে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসবের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে অনেক নবজাতক শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আগের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, গ্রামাঞ্চলে মাতৃদুগ্ধপানের উপকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণা হয়নি। এ পরিস্থিতি বদলাতে আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এতে মাতৃদুগ্ধপানের হার বাড়বে, শিশু মৃত্যুও কমে আসবে।

শিশুখাদ্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারজাত গুঁড়ো দুধের পরিবর্তে ছয় মাস বয়সের পর ঘরে তৈরি সুষম খাবারই শিশুর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। চালের খুদ, ডাল, আলু ও শাক-সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি শিশুদের জন্য আদর্শ সম্পূরক খাদ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা উচিত নয়। মায়ের সান্নিধ্য ও বুকের দুধ শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং সুস্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে অনেক শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির কথা বলে শিশুকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখেন, যা ঠিক নয়। অল্প বয়সে বিয়ে, সচেতনতার অভাব এবং মাতৃদুগ্ধপানে অনীহা পুষ্টিহীনতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



এস.আর 

মন্তব্য