রাজনীতি

দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সখ্য ও আস্থার গল্প

মির্জা ফখরুল ও হাসান জাফির তুহিন

⎙ প্রিন্ট
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সখ্য ও আস্থার গল্প
মির্জা ফখরুল ও হাসান জাফির তুহিন: দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সখ্য ও আস্থার গল্প
# মির্জা ফখরুল ও হাসান জাফির তুহিন: দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সখ্য ও আস্থার গল্প ⌖ চাটমোহর
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনরত) কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন—এই দুই নেতার দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা কেবল দলীয় আনুগত্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা রূপ নিয়েছে গভীর এক বিশ্বস্ততা ও রাজনৈতিক আস্থায়। তুহিনের আজকের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও চৌকস নেতৃত্বের পেছনে হবু রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও অভিভাবকত্ব অনস্বীকার্য।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থাকাকালীন সময় থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংস্পর্শে আসেন কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তৎকালীন সময় থেকেই বিএনপির এই সিনিয়র নেতার আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। রাজপথের তীব্র আন্দোলন-সংগ্রামে তুহিনের ত্যাগ ও সাহসিকতা সবসময়ই নজর কেড়েছে সাবেক এই বিএনপি মহাসচিবের।  
রাজনীতির কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় একাধিকবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন রাজপথের এই লড়াকু সৈনিক। ২০১৮ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুশয্যায় ঢলে পড়েছিলেন তুহিন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে যখন তিনি লড়ছিলেন, তখন রাজধানীতে তাকে প্রথম দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন খোদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুলের সেই উপস্থিতি ও সহানুভূতি তুহিনকে রাজপথে আরও বেশি সাহসী ও আপসহীন হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।  
শুধু কঠিন সময়ে পাশেই দাঁড়ানো নয়, সংগঠক হিসেবে হাসান জাফির তুহিনের মেধা ও দক্ষতাকে সবসময় সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের জাতীয় সম্মেলনের পর যখন নানা প্রতিকূলতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেন তিনি। গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত ঠেকিয়ে দিয়ে দ্রুত কৃষকদলের কমিটি বাস্তবায়নে মূল কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন তিনি।  
সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে এবং কৃষকদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তরুণ ও ত্যাগী নেতা কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনীত করার জন্য বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি ও সুদৃঢ় সুপারিশ উপস্থাপন করেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তাঁর মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করে তাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়, যা তার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতারই বহিঃপ্রকাশ।  
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের ত্যাগী ও মেধাবী নেতা হিসেবে হাসান জাফির তুহিনের যে পরিচিতি এবং বিএমডিএ-র মতো সংস্থায় সচিব পদমর্যাদায় সফল নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা, তার পেছনে যেমন রয়েছে তার নিজস্ব সততা, তেমনি রয়েছে অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সার্বক্ষণিক স্নেহচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ভিত্তি। দুই প্রজন্মের এই দুই নেতার দীর্ঘ পথচলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য