পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের আকাশ শিকদারের ছেলে সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে গত ৬ অক্টোবর রাতে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান দূরসম্পর্কের আত্মীয় মুন্না শিকদার।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায়।
একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুন্না শিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে প্রথমে ট্রেনযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে তাকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণ ও মানবপাচারের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।









মন্তব্য