অপরাধ

আটঘরিয়ায় তমা হত্যা: প্রাণনাশের হুমকিতে গ্রামছাড়া পিতা

প্রিন্ট
আটঘরিয়ায় তমা হত্যা: প্রাণনাশের হুমকিতে গ্রামছাড়া পিতা
# আটঘরিয়ায় তমা হত্যা: আসামিদের প্রাণনাশের হুমকি ও স্ত্রীর পরকীয়া ষড়যন্ত্রের জেরে গ্রামছাড়া পিতা, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি!! ⌖ আটঘরিয়া
পাবনার আটঘরিয়ায় কিশোরী কামরুন নাহার তমা (২০)-কে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার মেলেনি; উল্টো আসামিদের অব্যাহত অত্যাচার, প্রাণনাশের হুমকি ও পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মুখে নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে গ্রামছাড়া হতে হয়েছে নিহতের পিতাকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে, পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে। ঘটনার দিন নিহতের পিতা মো: নাইম আলী ওরফে নায়েব আলী বাড়িতে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে প্রতিবেশী হাচেন আলীর বাঁশঝাড়ে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তমার নিথর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের পিতা বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে র‍্যাব-১২ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি মো: আদম (৫৫) (পিতা: মৃত নুরুল ইসলাম, সাং-ষাটগাছা উত্তরপাড়া)-কে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উদঘাটিত হয় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। র‍্যাব কার্যালয়ে অনুসন্ধানে উঠে আসে, ১ নম্বর আসামি আদমের সঙ্গে নিহতের মা ইশরাত জাহান মিতু (৩৮)-র দীর্ঘদিনের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।  সেই অনৈতিক দেখে ফেলে তমা,  সম্পর্কের জেরে ও আসামির কু-পরামর্শে তমাকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয়।দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস কারাগারে থাকার পর  আসামি আদম আলী জামিনে মুক্ত হয়ে লোকালয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই তার ক্যাডার বাহিনী, মো: হযরত আলী মোল্লা,পিতা: হাসেন আলী মোল্লা,  মো: রিপন (৩৬) পিতা মৃত তুরাব আলী,এবং  মো: বদর (৪০),পিতা রোকন আলীকে সাথে নিয়ে বাদী নায়েব আলীর ওপর চরম অত্যাচার শুরু করে। এমনকি নিহতের নিজের মা-ও নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে গিয়ে আসামিদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত গালিগালাজ, ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। আসামিদের প্রকাশ্য নির্যাতন ও হত্যার হুমকিতে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নেন অসহায় পিতা নায়েব আলী। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আটঘরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৫৩৩, তারিখ: ১০/০২/২০২৫) দায়ের করলেও আসামিরা বর্তমানে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরণের ক্ষতি বা তাকে হত্যা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজ কন্যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুবিচার নিশ্চিত করতে এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৯ আগস্ট  ২০২৬ তারিখে পাবনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন নিহতের পিতা নায়েব আলী। একটি উঠতি বয়সের কিশোরীকে হত্যা করার পর প্রধান অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা এবং বাদীকে গ্রামছাড়া করার এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; তারা অতিদ্রুত চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য