রিপোর্ট: জয়
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রায় ১৫ বিঘা সরকারি সম্পত্তি ও উপজেলা পরিষদের জমি নিয়ে বিচার বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই টানাপোড়েন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ২০১৩ সালে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সেরেস্তাদার বাদী হয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০২৬ সালে এসে সেই মামলার আরজি সংশোধন করে উপজেলা পরিষদের প্রায় ৭ একর জায়গা নিজেদের বলে দাবি করে আদালত কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
এই জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় উপজেলা পরিষদের বিশেষ সভা ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা পরিষদের আনুষ্ঠানিক 'ক্লিয়ারেন্স' না পাওয়া পর্যন্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ স্থগিত থাকবে।
সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ২১ জুন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয় উপজেলা প্রশাসন।
মূল জটিলতার শুরু এরপরই। উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া ওই সরকারি চিঠিটিকেই আদালতের আদেশ অমান্য বা 'নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ' হিসেবে গণ্য করে ইউএনওর বিরুদ্ধে ভায়োলেশন মামলা করা হয়।
তবে নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার আবেদন ও আদেশ দুটোই দেওয়া হয়েছিল ২৪ মে, একই দিনে কোনো শুনানি ছাড়াই। আদালত থেকে এই নিষেধাজ্ঞার নোটিশ, আরজি ও আদেশের অনুলিপি উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় অনেক পরে, ৩০ জুন।
প্রশাসনের প্রশ্ন, যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতই ৩০ জুন, সেই আদেশের আগে দেওয়া ২১ জুনের একটি সাধারণ সরকারি চিঠিকে কীভাবে 'আদালত অবমাননা' বলা হলো?
এছাড়া বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৬ জুলাই ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশের কপি ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর বিরুদ্ধে ইউএনওর পক্ষ থেকে জেলা জজ আদালতে 'সিভিল রিভিশন' দায়ের করা হলে ১৩ আগস্ট তার শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার স্বার্থে গত ২৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজের আদেশে মূল মামলা ও ভায়োলেশন মামলাটি শাহজাদপুর থেকে সরিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর আদালতে স্থানান্তর করা হয়। তবে ৬ আগস্ট নতুন আদালতে শুনানিতে ইউএনওর সকল আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। আজ ১৩ আগস্ট মামলার একতরফা সাক্ষ্য গ্রহণ ও চূড়ান্ত আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
একটি সরকারি জমির মালিকানা ও আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যকার এই নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি অবস্থান পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে শাহজাদপুরে আদালত ও উপজেলা পরিষদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একটি মহল সরকারের প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শাহজাদপুরে আদালত-প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই
উপজেলা পরিষদের জমির ওপর আদালতের দাবি









মন্তব্য