ওপেন নিউজ ২৪

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধা নারীর, কেটে ফেলা হলো অর্ধশতাধিক গাছ—উত্তেজনা এলাকাজুড়ে

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধা নারীর, কেটে ফেলা হলো অর্ধশতাধিক গাছ—উত্তেজনা এলাকাজুড়ে

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা নারীকে মারধর এবং তার জমিতে থাকা অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ ফাতেমা খাতুন (৭০) তার স্বামী মৃত আব্দুল হেকিমের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। বিরোধটি মূলত প্রায় ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে, যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল অনেকদিন ধরেই।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার মোঃ সোরহাব আলী (৫০), মোঃ নুর জামাল (৩৫) ও মোঃ বুলবুল মিয়া (২৮)সহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন বাঁশের লাঠি, রড ও কুড়াল—নিয়ে তার বসতবাড়ির সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা তাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ সময় ফাতেমা খাতুন এবং তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুনের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পরের মাধ্যমে তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। এতে তার শরীরে ফোলা ও মারাত্মক ব্যথার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার জমিতে থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও কাঠগাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হঠাৎ এমন সহিংস ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে স্থানীয়রা আহত ফাতেমা খাতুনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা আয়েশা বেগম, আব্দুল করিম ও সখিনা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করেছে এবং আমার লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে। এখন তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


নেত্রকোনা দুর্গাপুরে জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধা নারীর, কেটে ফেলা হলো অর্ধশতাধিক গাছ—উত্তেজনা এলাকাজুড়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা নারীকে মারধর এবং তার জমিতে থাকা অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ ফাতেমা খাতুন (৭০) তার স্বামী মৃত আব্দুল হেকিমের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। বিরোধটি মূলত প্রায় ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে, যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল অনেকদিন ধরেই।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার মোঃ সোরহাব আলী (৫০), মোঃ নুর জামাল (৩৫) ও মোঃ বুলবুল মিয়া (২৮)সহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন বাঁশের লাঠি, রড ও কুড়াল—নিয়ে তার বসতবাড়ির সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা তাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।এ সময় ফাতেমা খাতুন এবং তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুনের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পরের মাধ্যমে তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। এতে তার শরীরে ফোলা ও মারাত্মক ব্যথার সৃষ্টি হয়।ঘটনার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার জমিতে থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও কাঠগাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হঠাৎ এমন সহিংস ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে স্থানীয়রা আহত ফাতেমা খাতুনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা আয়েশা বেগম, আব্দুল করিম ও সখিনা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করেছে এবং আমার লাগানো গাছ কেটে ফেলেছে। এখন তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”তিনি আরও জানান, ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৬ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত