চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে এক নারীকে বিবাহের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গোপনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার ববি (২২) পতেঙ্গার বাসিন্দা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর তোফাজ্জলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তোফাজ্জল তাকে জোরারগঞ্জে একটি হাসপাতালে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন এবং সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই সময়েই অভিযুক্ত তোফাজ্জল গোপনে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তোফাজ্জল তাকে মারধর শুরু করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাসা পরিবর্তন করলে তোফাজ্জল তাকে খুঁজে বের করে পুনরায় অনৈতিক সম্পর্কের দাবি জানান। দাবি পূরণ না করলে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হোটেলে না গেলে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। এই ষড়যন্ত্রে তোফাজ্জলের সহযোগী মানিকও সরাসরি যুক্ত ছিল বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে এবং বিবাদীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির দ্বারস্থ হন।
সংস্থার সভাপতি ফরহাদুল হাসান মোস্তফা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং সে সাথে সংস্থার প্রচার সম্পাদক মোঃ তানভীর উদ্দিন ভুক্তভোগীকে নিয়ে সরাসরি জোরারগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুজু হয়, যার নম্বর ১০। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১) ধারা এবং ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মামলার প্রধান আসামি তোফাজ্জল হোসেন ফেনী জেলার সদর থানার মহিপাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। এর ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তিনি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মোহাম্মদ হারেছ।
এছাড়া একই দিন রাত প্রায় ৯টা ১০ মিনিটে র্যাব-৭ এর আরেকটি দল চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার ধুমপাড়া আম্বিয়া ফিলিং স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মানিক (২৭)-কে গ্রেফতার করে। মানিক পতেঙ্গা থানার ধুমপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন