নড়াগাতীর পাখিমারা গ্রামে খাটের নিচে মিলল ৩৮ কেজি গাঁজানারী মাদক কারবারী আটক, সহযোগী পলাতক; মামলা দায়। স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ লিটন শিকদারনড়াইলের নড়াগাতী থানাধীন পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে খাটের নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় ৩৮ কেজি গাঁজাসহ রুচিয়া বেগম (৫৪) নামে এক নারী মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত একই গ্রামের জেফরুল মেম্বারের সেজ ভাই, মৃত লুৎফুর সরদারের ছেলে রিপুল সরদার (৩৯)-এর বাড়িতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।সোমবার (০৪ মে) দুপুরে নড়াগাতীর পাখিমারা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলক মজুমদার। আটক রুচিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত তরিকুল সরদারের স্ত্রী বলে জানা গেছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় রুচিয়া বেগমের বসতঘরের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ২ কেজি ওজনের ১৮টি প্যাকেট এবং অপর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ কেজি।উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার কার্যক্রম চলছিল। তবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের কারণে এখন মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।অভিযান চলাকালে আটক রুচিয়া বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগী হিসেবে রিপুল সরদারের নাম প্রকাশ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রিপুল সরদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এ ঘটনায় সোমবারই জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলক মজুমদার বাদী হয়ে আটক রুচিয়া বেগম ও পলাতক রিপুল সরদারকে আসামী করে নড়াগাতী থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০১।জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলক মজুমদার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আটককৃত নারী ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা পলাতক আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।