গোপালগঞ্জে বেওয়ারিস কুকুরের আতঙ্ক: নারী-শিশুসহ আহত, হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট
স্টাফ রিপোর্টার : মো: লিটন শিকদার
গোপালগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ কুকুরের অবাধ বিচরণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার তেঘরিয়া এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শওকত হোসেনের স্ত্রী ফারহানা, কোটন শেখ ও বিজয় বিশ্বাসসহ অন্তত একজন শিক্ষার্থী তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে
ছুটলে সেখানেও মিলেছে ভোগান্তির চিত্র। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,
সরকারিভাবে সরবরাহকৃত অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে
ভ্যাকসিন না পেয়ে তাদের উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজমিস্ত্রীর স্ত্রী জানান, কুকুরে কামড় খাওয়া
দুই বছরের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে বাইরে থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন
কিনে আনতে বলা হয়, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই ভ্যাকসিনের মজুত শেষ
হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন সরবরাহ পেতে বিলম্ব হচ্ছে। কুকুরের কামড়ের শিকার রোগীর
সংখ্যা দিন দিন বাড়ায় নিয়মিত চাহিদা মেটানো হাসপাতালের পক্ষে কঠিন হয়ে
পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর সচিব রকিবুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো আইনি সুযোগ নেই। এছাড়া ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে তিনি দায় এড়াতে গিয়ে বলেন, এটি তাদের আওতাভুক্ত কোনো বিষয় নয়।
পৌর এলাকা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবাধে ঘুরে বেড়ানো এই বেওয়ারিশ কুকুরগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তায় বিকল্প কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন