ভোলার লালমোহনে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, চাচার নেতৃত্বে ধারাবাহিক হামলায় আহত হয়েছেন তিন ভাতিজী। ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ মৃত্যুবরণ করার পর তার স্ত্রী ও চার সন্তান অসহায় হয়ে পড়েন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। এই সুযোগে মৃতের বড় ভাই ইসমাইল হাওলাদার ধীরে ধীরে তাদের রেখে যাওয়া জমিজমা ভোগদখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর সন্তানরা বড় হলে প্রায় তিন বছর আগে তারা নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে কিছু জমি ফিরে পেয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। তবে সেই বিরোধের অবসান হয়নি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা মাঝে মাঝে গ্রামে এলে প্রতিনিয়ত হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। সর্বশেষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামে এসে আবারও হামলার শিকার হন তারা।
গত মঙ্গলবার সকালে পরিবারের এক শিশুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি পুকুরে মাছ ধরতে গেলে ইসমাইল হাওলাদার তাকে মারধর করেন। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম, খালা জিনাদ নুসাইবা ও রাবেয়া প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ইসমাইল হাওলাদার, তার নাতি ইলিয়াস, শফিকসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন কুলসুম (৩২), জিনাদ নুসাইবা (২৫) ও রাবেয়া (২২)। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় কুলসুমকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আহতদের মধ্যে জিনাদ নুসাইবা একটি অনুমোদিত আইপি টেলিভিশন CHDNews24-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন বুধবারও অভিযুক্তরা আবার বাড়িতে গিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় আতঙ্কে ভুক্তভোগীরা ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন। হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে ভাঙচুর চালায় এবং পুকুরে যাওয়ার পথসহ বাইরে যাতায়াতের রাস্তা কাঁটার বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
ভুক্তভোগী জিনাদ নুসাইবা জানান, জমির ন্যায্য অধিকার ও পারিবারিক পুকুর ব্যবহারের বিষয় নিয়ে কথা বলার জেরেই এই হামলা হয়েছে। হামলার সময় তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হলে বড় বোন কুলসুম প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও জানান, তারা ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। থানায় যোগাযোগ না পেয়ে জরুরি সেবা নম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় জিনাদ নুসাইবা লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইসমাইল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জমি নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্বে থেকেই ভাগাভাগি ছিল এবং কিছু জমি ভাতিজাদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নিলে পারিবারিক এই বিরোধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন