রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
ওপেন নিউজ ২৪

রহস্য ঘনীভূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত—মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

রহস্য ঘনীভূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত—মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | স্টাফ  রিপোর্টার মো: লিটন সিকদার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ–এর বরাত দিয়ে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন তিনি এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানে অবস্থিত তার প্রাসাদ কমপাউন্ডে প্রাণ হারান তিনি এবং পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ইরানি উদ্ধারকারী দল।শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।তবে এ ঘটনার পরপরই ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে। তেহরান জানায়, শত্রুপক্ষ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য—তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাই—নিহত হয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি খামেনির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অনুপস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, পাল্টা হামলা কিংবা কূটনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ঘটনার সত্যতা, হতাহতের সঠিক সংখ্যা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেটের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

রহস্য ঘনীভূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত—মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা