ওপেন নিউজ ২৪

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে রাজীব খাদেমের ব্যপক অনিয়ম,১২ কোটির টাকার প্রকল্পে ৩ কোটিই ঘুষ!

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে রাজীব খাদেমের ব্যপক অনিয়ম,১২ কোটির টাকার প্রকল্পে ৩ কোটিই ঘুষ!
ছবিঃ সংগৃহীত

 :ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ রাজীব খাদেমকে  গত পাঁচ ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে মামলার ৩৪ নং আসামী যার মামলা নং২২৪/২৫তারপরেও তাহার দুর্নীতির বন্ধ হয়নি।  ঘিরে রাজধানীর একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উন্নয়নে তার দায়িত্ব পালনের ধরন জনমনে ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো সামনে এসেছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট (ডিসিএনইউপি)’-কে কেন্দ্র করে।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি  বিভিন্ন এলাকায় গণপরিসর, পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এই প্রকল্পে শুরু থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম দেখা গেছে। প্রথমে প্রেম রতন বাবুকে নিয়োগ দিয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদকে নিয়োগ দেওয়া হলেও বনিবনা না হওয়ার অজুহাতে তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছুদিন পর কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না। এই অস্বচ্ছ নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুরো প্রকল্পের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি এই প্রকল্পে ঘুষ গ্রহণ ও কমিশন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি ১২ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে মোঃ রাজীব খাদেম ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত কমিশন না পেলে তিনি প্রকল্প ভণ্ডুল বা স্থগিত করে দেওয়ার মতো হুমকিও দিতেন। তার এমন আচরণের কারণে প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে এবং অন্যান্য কাজেও সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় জনগণ ও কর্মকর্তাদের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডিসিএনইউপি ছাড়াও ঢাকার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

লালকুঠি (নর্থব্রুক হল) সংস্কার প্রকল্প: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই ভবনকে তার প্রাচীন জৌলুসে ফেরানোর লক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান রাজীব খাদেম। কিন্তু হেরিটেজ সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর এই কাজেও মানহীনতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষজনক ফলাফলের অভিযোগ উঠেছে।

ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প: ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রাজধানীর যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। যানজট কমানো ও যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করার এই প্রকল্পে স্বচ্ছতার চরম অভাব, তদারকিতে গাফিলতি এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজের প্রমাণ মিলেছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন প্রকল্প: যানজট নিরসন ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের এই প্রকল্পেও স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকির অভাব ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। ঠিকাদারদের সাথে অনিয়মিত সম্পর্ক ও ঘুষ গ্রহণের কারণে এই প্রকল্পের সুফলও জনগণের কাছে পৌঁছায়নি।

এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় সংবাদপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়োগে অস্বচ্ছতা, কমিশন দাবি ও কাজের নিম্নমান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার মতো বৃহৎ শহরের জটিল নগর উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, সৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সঠিক তদারকি ছাড়া লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন দুর্নীতি শুধু স্থানীয়দেরই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পুরো নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেই হুমকির মুখে ফেলছে।

মোঃ রাজীব খাদেমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একটি প্রকল্পের দুর্নীতি নয়, বরং সামগ্রিক নগর উন্নয়নের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্টের একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে রাজীব খাদেমের ব্যপক অনিয়ম,১২ কোটির টাকার প্রকল্পে ৩ কোটিই ঘুষ!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
 :ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ রাজীব খাদেমকে  গত পাঁচ ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে মামলার ৩৪ নং আসামী যার মামলা নং২২৪/২৫তারপরেও তাহার দুর্নীতির বন্ধ হয়নি।  ঘিরে রাজধানীর একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উন্নয়নে তার দায়িত্ব পালনের ধরন জনমনে ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো সামনে এসেছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট (ডিসিএনইউপি)’-কে কেন্দ্র করে।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি  বিভিন্ন এলাকায় গণপরিসর, পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এই প্রকল্পে শুরু থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম দেখা গেছে। প্রথমে প্রেম রতন বাবুকে নিয়োগ দিয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদকে নিয়োগ দেওয়া হলেও বনিবনা না হওয়ার অজুহাতে তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছুদিন পর কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না। এই অস্বচ্ছ নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুরো প্রকল্পের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি এই প্রকল্পে ঘুষ গ্রহণ ও কমিশন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি ১২ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে মোঃ রাজীব খাদেম ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত কমিশন না পেলে তিনি প্রকল্প ভণ্ডুল বা স্থগিত করে দেওয়ার মতো হুমকিও দিতেন। তার এমন আচরণের কারণে প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে এবং অন্যান্য কাজেও সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় জনগণ ও কর্মকর্তাদের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।ডিসিএনইউপি ছাড়াও ঢাকার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:লালকুঠি (নর্থব্রুক হল) সংস্কার প্রকল্প: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই ভবনকে তার প্রাচীন জৌলুসে ফেরানোর লক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান রাজীব খাদেম। কিন্তু হেরিটেজ সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর এই কাজেও মানহীনতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষজনক ফলাফলের অভিযোগ উঠেছে।ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প: ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রাজধানীর যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। যানজট কমানো ও যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করার এই প্রকল্পে স্বচ্ছতার চরম অভাব, তদারকিতে গাফিলতি এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজের প্রমাণ মিলেছে।সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন প্রকল্প: যানজট নিরসন ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের এই প্রকল্পেও স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকির অভাব ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। ঠিকাদারদের সাথে অনিয়মিত সম্পর্ক ও ঘুষ গ্রহণের কারণে এই প্রকল্পের সুফলও জনগণের কাছে পৌঁছায়নি।এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় সংবাদপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়োগে অস্বচ্ছতা, কমিশন দাবি ও কাজের নিম্নমান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার মতো বৃহৎ শহরের জটিল নগর উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, সৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সঠিক তদারকি ছাড়া লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন দুর্নীতি শুধু স্থানীয়দেরই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পুরো নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেই হুমকির মুখে ফেলছে।মোঃ রাজীব খাদেমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একটি প্রকল্পের দুর্নীতি নয়, বরং সামগ্রিক নগর উন্নয়নের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্টের একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৬ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত