ওপেন নিউজ ২৪

তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র, জঙ্গলে পোড়া লাশ উদ্ধার, হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের সাফল্য

তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র, জঙ্গলে পোড়া লাশ উদ্ধার, হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের সাফল্য
তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র, জঙ্গলে পোড়া লাশ উদ্ধার, হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের সাফল্য


তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসাছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুর জেলা টিম। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে (১৯) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা। শুক্রবার (৬ মার্চ) আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।


গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জয়দেবপুরের ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে নিজ বাসায় ফিরছিল নিহত রনি। সে স্থানীয় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় তার দাদা মোঃ তারা মিয়া (৫৫) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।


পরের দিন দুপুরে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় মোঃ মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন ফলজ ও বনজ গাছপালার জঙ্গলের ভেতর থেকে ১৩/১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা মিয়া। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত পোড়া অবস্থায় পড়ে থাকা মৃতদেহটি তার নাতি রনি বলে শনাক্ত করেন। পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।


এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাদী হয়ে ১ মার্চ জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০১, ধারা-৩০২/২০১/২৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই-এর সিডিউলভুক্ত হলে পিবিআই গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।


অতিরিক্ত আইজিপি পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের সঠিক তত্ত্বাবধান ও পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদের দিক নির্দেশনায় একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। গত ৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। সে ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজী ইকবাল হোসেনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার গাফুরিয়া মাদ্রাসা এলাকায়।


গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামী নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করে। শুক্রবার বিকেলে তাকে গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। আসামী ছাব্বির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে সে গাঁজা সেবনের জন্য ওই জঙ্গলে যায়। সেখানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় তাকে দেখে ফেলে রনি। রনি বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আসামী তাকে বাধা দেয় এবং না বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু রনি না শুনলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামী প্রথমে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পরে পেছন থেকে গলায় হাত চেপে ধরে ও ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলেই মৃতদেহটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায় সে।


পিবিআই গাজীপুর জেলার এ সাফল্যে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা পিবিআইয়ের এই তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬


তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র, জঙ্গলে পোড়া লাশ উদ্ধার, হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের সাফল্য

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসাছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুর জেলা টিম। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে (১৯) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা। শুক্রবার (৬ মার্চ) আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জয়দেবপুরের ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে নিজ বাসায় ফিরছিল নিহত রনি। সে স্থানীয় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় তার দাদা মোঃ তারা মিয়া (৫৫) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।পরের দিন দুপুরে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় মোঃ মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন ফলজ ও বনজ গাছপালার জঙ্গলের ভেতর থেকে ১৩/১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা মিয়া। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত পোড়া অবস্থায় পড়ে থাকা মৃতদেহটি তার নাতি রনি বলে শনাক্ত করেন। পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাদী হয়ে ১ মার্চ জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০১, ধারা-৩০২/২০১/২৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই-এর সিডিউলভুক্ত হলে পিবিআই গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।অতিরিক্ত আইজিপি পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের সঠিক তত্ত্বাবধান ও পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদের দিক নির্দেশনায় একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। গত ৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামী ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। সে ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজী ইকবাল হোসেনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার গাফুরিয়া মাদ্রাসা এলাকায়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামী নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করে। শুক্রবার বিকেলে তাকে গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। আসামী ছাব্বির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে সে গাঁজা সেবনের জন্য ওই জঙ্গলে যায়। সেখানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় তাকে দেখে ফেলে রনি। রনি বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আসামী তাকে বাধা দেয় এবং না বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু রনি না শুনলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামী প্রথমে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পরে পেছন থেকে গলায় হাত চেপে ধরে ও ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলেই মৃতদেহটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায় সে।পিবিআই গাজীপুর জেলার এ সাফল্যে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা পিবিআইয়ের এই তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৬ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত