প্রতিনিয়ত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দুর্যোগ ও ঝুঁকির মাত্রা বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে ১৯টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ বাসিন্দা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এক কঠিন বাস্তবতার মাঝে দিয়ে দিন পার করছেন। আকস্মিক দুর্যোগ, সুপেয় পানির ঘাটতি, কৃষি জমির ও টেকসই বেরিবাঁধ অভাব, জীবন জীবিকা সংকট ইত্যাদি নানা দুর্ভোগের সাথে যুদ্ধ করেই জীবন চলছে।
অপরিকল্পিত অবকাঠমো নির্মাণ, উন্নয়ন উদ্যোগে সমন্বয়হীনতা, টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ হীন এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় ব্যবস্থাপনার সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
গতবছর ১৩ - ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় উপকূল সম্মেলন ২০২৫-এ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ এবং সমাজভিত্তিক সমাধান নথিভুক্ত করার মধ্য দিয়ে উপকূলীয় ব্যবস্থাপনার সংস্কারের বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আলোচনা ও অভিজ্ঞতার আলোকে, ন্যায্য, সহনশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল “জাতীয় উপকূল ঘোষণা ২০২৫”।
উপকূলীয় বাসীর একমাত্র ভরসা উপকূল এলাকার সন্তান, পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় উপকূলবাসীর মনে সান্তনা এসেছে তার কাছে সকল উপকূলীয় বাসীর একমাত্র চাওয়া জাতীয় উপকূলীয় সম্মেলনের গৃহীত ২৭ দফা বাস্তবায়ন। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে গৃহীত ২৭ দফা বাস্তবায়ীত হলে উপকূল প্রান্তেরই মানুষের জীবন আরও নিরাপদ ও সহজ হবে; ""বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে প্রকৃতি""।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় উপকূল সম্মেলন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুপক্ষীয় এবং নীতিনির্ধারণমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলনের আলোচনায় উপকূল পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকা, ন্যায্য রূপান্তর ও জ্বালানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচিত হয়েছে। এসব খাতের পারস্পরিক নির্ভরতা এবং নীতিগত অসামঞ্জস্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে।
উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ এবং সমাজভিত্তিক সমাধান নথিভুক্ত করার মাধ্যমে জনগণের বাস্তব চর্চা ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের মধ্যে একটি প্রমাণভিত্তিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন, জাতীয় বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে এ সংযোগ একটি কার্যকর রেফারেন্স কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন