ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা
ও সালথা উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনায়
উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সহিংসতা
পরিহার করে শান্তি বজায়
রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী
মাওলানা শাহ মো. আকরাম
আলী (ধলা হুজুর)।
শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি নগরকান্দা-সালথার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও আস্থা আমাকে অভিভূত করেছে। ‘রিকশা’ প্রতীকে আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, তা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি আরও বলেন, বিপুল ভোট প্রাপ্তি প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন ও নীতি-আদর্শভিত্তিক ইনসাফের রাজনীতি প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে ত্যাগী নেতা-কর্মী, সমর্থক, প্রবাসী ভোটার, পরিবার-পরিজন, মা-বোন এবং ছাত্র-যুব সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, “মুমিনের জীবনে হতাশা নেই। মহান আল্লাহ পরিশ্রম ও সৎ নিয়তকে বিফল করেন না।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কাইজা-দাঙ্গা, প্রতিহিংসা ও মারামারি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “আমরা একই এলাকার মানুষ। নির্বাচন আজ আছে, কাল থাকবে না; কিন্তু সহাবস্থান ও সম্প্রীতি চিরস্থায়ী। আসুন, মিলেমিশে নগরকান্দা-সালথায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করি।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উভয় উপজেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে।
বার্তায় ধলা হুজুর ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দল-মত নির্বিশেষে নগরকান্দা-সালথার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। উল্লেখ্য, শামা ওবায়েদ ইসলাম মরহুম কে. এম. ওবায়দুর রহমানের কন্যা। তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এ আসনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
সবশেষে ধলা হুজুর বলেন, “মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা থামবে না। আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের ভালোবাসাই আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পুঁজি। আমরা আরও সংগঠিত হব, আরও দক্ষ হব এবং মানুষের পাশে দাঁড়াব—ইনশাআল্লাহ।” এলাকাবাসী আশা করছেন, সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সংযমের মাধ্যমে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হয়ে নগরকান্দা-সালথায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন