ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু উন্নয়নভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের আলোকে প্রণীত এই ইশতেহারে মোট ১৯টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
লিখিত ইশতেহার পাঠকালে শামা ওবায়েদ বলেন, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার জন্য পৃথক দুটি পরিকল্পনাভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। উভয় উপজেলার প্রতিটি গ্রামকে ধাপে ধাপে আদর্শ গ্রামে রূপান্তর করা হবে। গ্রামগুলোতে পরিকল্পিত বসতি, নিরাপদ সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সবুজায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বাজার এলাকায় পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে ৫০ শতাংশের বেশি বেকার নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিদ্যমান অপরিকল্পিত ৪০টি বাজার পুনঃনকশা করে আধুনিক ও টেকসই বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। পাটনির্ভর কুটির শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পারিবারিক কুটির শিল্পে প্রণোদনা দিয়ে ঘরে ঘরে শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হবে।
ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয়। মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে কাজ করা হবে। ইলেকট্রনিকভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুবিধাসহ ২০ হাজার কম্পিউটার বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শামা ওবায়েদ আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপন করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। স্থানীয় কৃষকদের বিনামূল্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। খামারিদের জন্য আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সালথা উপজেলার ৩৫০ কিলোমিটার এবং নগরকান্দা উপজেলার ৫৩৮ কিলোমিটার সড়ক পুনঃসংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি সালথায় ৫৪ কিলোমিটার ও নগরকান্দায় ৩৩৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করা হবে। এছাড়া দুই উপজেলায় নতুন করে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া কুমার নদীসংলগ্ন উপনদী, খাল, বিল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পারিবারিক বাগান, সড়কের পাশে ও প্রকল্পভিত্তিক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও তাপমাত্রা হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য জনপদ গড়তে গ্রাম, শহর ও নগর এলাকায় সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বাজারভিত্তিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। শিক্ষা খাতে দুই উপজেলায় বিদ্যমান ৩১০টি স্কুল, ১টি কলেজ ও ২৪টি মাদ্রাসা আধুনিকায়ন এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে। শিশু-বান্ধব বিদ্যালয়, আইসিটিভিত্তিক শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালীকরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী নার্সিং প্রশিক্ষণ ও নার্স প্র্যাকটিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ ও বিদ্যমান ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও থাকবে।
যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠ, ক্রীড়া সুবিধা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। ছাত্র ও যুবদের জন্য বিভিন্ন উপযুক্ত স্থানে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। নারী সমাজের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে সালথা ও নগরকান্দায় দুটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে, যেখানে নারী আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা যুক্ত থাকবেন। এছাড়া প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ছেলে-মেয়েদের জন্য লাইব্রেরি স্থাপন, শতভাগ বিদ্যুৎ ও সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং উপজেলা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকারও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।

শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন