কাউনিয়ায় তিস্তা নদী থেকে রাত–দিন বালু লুট, নীরবে সক্রিয় একাধিক চক্র
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ও মধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধার থেকে শুরু করে প্রকাশ্য দিবালোকে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র এই বালু লুটে জড়িত।
স্থানীয়রা জানান, রাত গভীর হলেই বালু সিন্ডিকেটের তৎপরতা বেড়ে যায়। ভারী ট্রাক ও ডাম্পার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে সড়কের পাশের বসতবাড়ির মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। শব্দদূষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের কারণে সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই তিস্তা নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ভয় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকেই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও তীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মাঝে মধ্যে দু–একটি অভিযান পরিচালনা করে গাড়ি আটক করা হলেও পরে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সেই গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ অনুযায়ী, এই বালু চুরির সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত। তাদের দাবি, যুবলীগের এক নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম এবং বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবলু সরকার বাবু এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) অংকন পাল বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাতে–নাতে ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন