ফরিদপুর-২ আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-২ আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
অনুষ্ঠানে
আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, জেলা খেলাফত মজলিসের
সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেন, ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর
আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, জামায়াতে
উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, ফরিদপুর-৩ আসনের জামায়াত
প্রার্থী ও ফরিদপুর অঞ্চল
টিম সদস্য অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, জেলা জাতীয় নাগরিক
পার্টির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ হোসেন
সাহেদ, সদস্য সচিব সাইফ হাসান
খান সাকিব, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. সোহরাব
হোসেন, সালথা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো.
আবুল ফজল মুরাদ, নগরকান্দা
উপজেলা খেলাফত মজলিসের আহ্বায়ক মুফতি আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “আমাদের এই ঐক্য ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি আধিপত্যবাদী শক্তির শাসনে এ দেশ নিপীড়িত ছিল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি; শাসনের নামে স্থায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর শোষণ অব্যাহত ছিল।” তিনি বলেন, “সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ রাজপথে নেমে আসে। আল্লামা শাহ আকরাম আলী হঠাৎ ভেসে আসা কোনো নেতা নন, এজন্যই তাঁর নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।”
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই মাঠ বরাদ্দ নিয়ে যে তালবাহানা করা হয়েছে, তা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমতি নিয়েই দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা না হয়, তবে এর দায়ভার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও ওসিকে নিতে হবে।” শেষে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘রিস্কা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী বলেন, “ইসলাম ক্ষমতায় গেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। রাষ্ট্রীয় বাজেট সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বণ্টন করা হবে। এক টাকাও আত্মসাৎ করা হবে না। নগরকান্দা ও সালথার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১২ তারিখের পর আমরা কোথাও পালাব না, সবাই এখানেই একসঙ্গে বসবাস করবো। কেউ ভয় পাবেন না।” এ সময় তিনি সবাইকে রিস্কা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। জনসভা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন