নেত্রকোনা–১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্বাচনী প্রচার যেন কেবল ভোটের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর প্রতিটি পথচলা, প্রতিটি কথার ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে আছে এক মায়ের স্বপ্ন, এক সন্তানের দায়বদ্ধতা এবং একটি সমাজ বদলের অঙ্গীকার।মায়ের স্মৃতি বুকে ধারণ করেই তিনি আজ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন—হৃদয়ে জনতার আশা, হাতে ধানের শীষের প্রতীক।মায়ের স্বপ্নেই শুরু পথচলা
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নে দিনব্যাপী গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় অংশ নেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে মা-বোন ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর। ফিরে যান শৈশবে—মায়ের কাছে।বাকলজোড়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি বলেন,ছোটবেলায় মা প্রায়ই বলতেন—তোমাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ব্যারিস্টার হতে হবে। তখন ব্যারিস্টার কী, সেটাই বুঝতাম না। কিন্তু মায়ের চোখে স্বপ্ন দেখতাম। মাকে কথা দিয়েছিলাম, তাঁর স্বপ্ন একদিন পূরণ করব। আজ আমি ব্যারিস্টার হয়েছি ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের বিষয়—মা তা দেখে যেতে পারলেন না।
এই কথাগুলো বলার সময় উপস্থিত অনেকের চোখেও জল চলে আসে। মা হারানোর শূন্যতা যেন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উঠানভর্তি মানুষের মনে।
একজন মায়ের স্বপ্ন, একটি সমাজ বদলের অঙ্গীকার
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, তাঁর মা জুবাইদা কামাল কেবল নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবতেন না। সমাজ, দেশ এবং আগামী প্রজন্মের জন্যও তাঁর ছিল গভীর চিন্তা। বিশেষ করে যুবসমাজ যেন মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে মুক্ত থাকে—এটাই ছিল তাঁর অন্যতম স্বপ্ন।
তিনি বলেন,মা চাইতেন এই দেশের যুবকরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হোক, মাদক থেকে দূরে থাকুক, নিজের পায়ে দাঁড়াক। মানুষের জন্য কাজ করুক। আজ আমি রাজনীতিতে এসেছি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই।
তিনি আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর জীবনের ব্রত।রাজনীতি নয়, এটি একটি নৈতিক সংগ্রাম ,গণসংযোগকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাঁর ভাষায় ছিল না কোনো শ্লোগানের শুষ্কতা, ছিল না ক্ষমতার অহংকার। বরং ছিল দায়বদ্ধতার গভীর সুর।
তিনি বলেন,এই নির্বাচন আমার কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়। এটি একটি নৈতিক সংগ্রা—যেখানে মানুষের অধিকার, সম্মান ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িত।তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন, বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং আগামী প্রজন্মকে আদর্শ ও মানবিক শিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন।
মায়ের শূন্যতা বুকে নিয়েই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মা জুবাইদা কামাল ২০২২ সালের ২৩ জুন ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মায়ের সেই শূন্যতা আজও তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে গভীরভাবে অনুভূত হয়। তবু সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেই তিনি এগিয়ে চলেছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই আবেগঘন কথাবার্তা ও সমাজকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে। তারা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র ভোট চাওয়ার কৌশল নয়—বরং একটি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি, একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা।
একজন প্রবীণ ভোটার বলেন,
উনি রাজনীতি করতে এসেছেন ক্ষমতার জন্য না, দায়িত্বের জন্য—এই বিশ্বাসটাই আমাদের ছুঁয়ে গেছে।
মায়ের স্বপ্ন, জনতার প্রত্যাশা আর ধানের শীষের প্রতীক—এই তিনকে এক করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এগিয়ে চলেছেন এক মানবিক রাজনীতির পথে।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন