রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ওপেন নিউজ ২৪

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজপথ কাপানো নেতা নির্বাচনি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে।

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজপথ কাপানো নেতা নির্বাচনি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে।

বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনকে বুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নূর। বুধবার ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানান তিনি। এদিকে দল বললেও নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন  বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন । এমনটা করলে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা হবে বলে মনে করেন তিনি। বহু বছরের ত্যাগের তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা- দশমিনা) আসনে দল ও নিজের অবস্থান শক্ত করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হাসান মামুন। এ আসনে বিএনপির একমাত্র মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল। আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্র গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয় আসনটি। দলীয় প্রতীক 'ট্রাক' নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া হাসান মামুনও নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। শুরুর দিকে ভাবা হয়েছিল দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নুরের সঙ্গে নামবে দুই উপজেলা বিএনপি। কিন্তু তা না করে  দুই উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা থেকে জান তার সাথে। বিষয়টি অফিশিয়ালি বিএনপির কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন নুরুল হক নূর। এরই মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি দেন মামুন। ৩০ ডিসেম্বর তাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে ভাবা হলেও বাস্তবে ঘটে উলটো। মামুনের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন দুই উপজেলা বিএনপির পদ-পদবিধারী সব নেতা। গণহারে বহিষ্কার হলেও হাসান মামুনকে ছেড়ে না যাওয়ার পালটা ঘোষণা দেন তারা। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বিএনপির প্রায় সবার এমন অবস্থানে পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজপথ কাপানো নেতা নির্বাচনি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পরেছেন। এ নিয়ে বুধবার তিনি দেখা করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে, বুঝিয়ে-শুনিয়ে হাসান মামুনকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের নুর বলেন, বিএনপি তার মিত্রদের মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে। এসব আসনের প্রায় সবকটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা। আসনগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও কোনোরকম সহযোগিতাও পাচ্ছি না আমরা। এভাবে হলে তো আসন ছাড়া আর না ছাড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য রইল না। তারেক রহমানের সঙ্গে নুরের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। হাসান মামুনের সঙ্গে তাকে কথা বলতে বলেছেন তিনি। তবে এ উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। গলাচিপা পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, 'জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শুধু নয়, প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তো বহিষ্কার করা হয়েছে হাসান মামুনকে। নিয়মানুযায়ী তিনি এখন আর বিএনপির কেউ না। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, 'একদিকে হাসান মামুন নিজে পদত্যাগ করেছেন। আবার বিএনপিও তাকে বহিষ্কার করেছে। দল যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করলেও তারপরও তো পদত্যাগের ইস্যু রয়ে যাবে।

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, "হিসাবে অনেক কিছুই ভুল হয়েছে। ভিপি নুর যদি আজ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসতেন তাহলে তার বিপক্ষে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি তো নির্বাচন করছেন তার দলীয় প্রতীক ট্রাক নিয়ে। আর আমরা তো ধানের শীষের বিরুদ্ধে যাইনি। ২৫-৩০ বছর ধরে বিএনপির যে মানুষটাকে সুখে-দুঃখে পাশে পেয়েছি তার সঙ্গে আছি। দলের পক্ষ থেকে বলা হলে নির্বাচন থেকে সরে যাবেন কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন বলেন, 'দল, দলীয় মনোনয়ন, জোট, মিত্রদল, আসন ছাড়—এসব পর্ব পার করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কোনো অবস্থাতেই আর প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন আমি মনে করি একমাত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই এ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬


পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজপথ কাপানো নেতা নির্বাচনি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনকে বুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নূর। বুধবার ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানান তিনি। এদিকে দল বললেও নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন  বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন । এমনটা করলে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা হবে বলে মনে করেন তিনি। বহু বছরের ত্যাগের তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা- দশমিনা) আসনে দল ও নিজের অবস্থান শক্ত করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হাসান মামুন। এ আসনে বিএনপির একমাত্র মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল। আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্র গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয় আসনটি। দলীয় প্রতীক 'ট্রাক' নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া হাসান মামুনও নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। শুরুর দিকে ভাবা হয়েছিল দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নুরের সঙ্গে নামবে দুই উপজেলা বিএনপি। কিন্তু তা না করে  দুই উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা থেকে জান তার সাথে। বিষয়টি অফিশিয়ালি বিএনপির কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন নুরুল হক নূর। এরই মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি দেন মামুন। ৩০ ডিসেম্বর তাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে ভাবা হলেও বাস্তবে ঘটে উলটো। মামুনের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন দুই উপজেলা বিএনপির পদ-পদবিধারী সব নেতা। গণহারে বহিষ্কার হলেও হাসান মামুনকে ছেড়ে না যাওয়ার পালটা ঘোষণা দেন তারা। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বিএনপির প্রায় সবার এমন অবস্থানে পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজপথ কাপানো নেতা নির্বাচনি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পরেছেন। এ নিয়ে বুধবার তিনি দেখা করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে, বুঝিয়ে-শুনিয়ে হাসান মামুনকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের নুর বলেন, বিএনপি তার মিত্রদের মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে। এসব আসনের প্রায় সবকটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা। আসনগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও কোনোরকম সহযোগিতাও পাচ্ছি না আমরা। এভাবে হলে তো আসন ছাড়া আর না ছাড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য রইল না। তারেক রহমানের সঙ্গে নুরের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। হাসান মামুনের সঙ্গে তাকে কথা বলতে বলেছেন তিনি। তবে এ উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। গলাচিপা পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, 'জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শুধু নয়, প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তো বহিষ্কার করা হয়েছে হাসান মামুনকে। নিয়মানুযায়ী তিনি এখন আর বিএনপির কেউ না। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, 'একদিকে হাসান মামুন নিজে পদত্যাগ করেছেন। আবার বিএনপিও তাকে বহিষ্কার করেছে। দল যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করলেও তারপরও তো পদত্যাগের ইস্যু রয়ে যাবে। গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, "হিসাবে অনেক কিছুই ভুল হয়েছে। ভিপি নুর যদি আজ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসতেন তাহলে তার বিপক্ষে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি তো নির্বাচন করছেন তার দলীয় প্রতীক ট্রাক নিয়ে। আর আমরা তো ধানের শীষের বিরুদ্ধে যাইনি। ২৫-৩০ বছর ধরে বিএনপির যে মানুষটাকে সুখে-দুঃখে পাশে পেয়েছি তার সঙ্গে আছি। দলের পক্ষ থেকে বলা হলে নির্বাচন থেকে সরে যাবেন কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন বলেন, 'দল, দলীয় মনোনয়ন, জোট, মিত্রদল, আসন ছাড়—এসব পর্ব পার করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কোনো অবস্থাতেই আর প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন আমি মনে করি একমাত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই এ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৬ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত