পাবনার পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক উত্তম কুমার।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে বই বিতরণ করা হয়েছে। অথচ যোগ্য ও নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অনেকেই বই থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, যেসব শিক্ষার্থী উত্তম কুমারের প্রাইভেট কোচিংয়ে পড়ে, তারাই সহজে বই পেয়ে যাচ্ছে। আর যারা প্রাইভেট পড়ে না, তারা বইয়ের দেখা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি স্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগ।
অভিযোগের সত্যতা জানতে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক উত্তম কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, এই মন্তব্য করে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুব বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছিল, বিষয়টি আমরা নজরে এনেছি। এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ অ্যাকশনে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি।
এদিকে অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক যদি ব্যক্তিগত কোচিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বই বিতরণকে প্রভাবিত করেন, তবে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার কোথায় দাঁড়ায়?
অভিভাবকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে।

সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন