ওপেন নিউজ ২৪
জন দুর্ভোগ

জন দুর্ভোগ

নড়াইলে সমবায় সমিতি সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ — বিচারের দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নাসির আহমেদ
নাসির আহমেদ
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ
নড়াইলে সমবায় সমিতি সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ — বিচারের দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মানব বন্ধন

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার গাজীরহাট বাজারে মাতৃছায়া কৃষি সমবায় লিমিটেডের সভাপতি সোহাগ মৃধা বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে; মঙ্গলবার নয়, আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা তাদের ব্যানারে একযোগে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন। বক্তব্য রাখেন সামিরুল শেখ, আনোয়ার হোসেন, মো. হিমেল, বুলু মোল্যা, রিপন সাহা, হৃদয় রায় ও জহিরুল ফকির প্রমুখ।

কালিয়া থেকে নিবন্ধিত এই সমবায় সমিতিটি মূলত কালিয়ার হামিদপুর, পেড়লি, পাঁচগ্রাম ও চাঁচুড়ী ইউনিয়নেই সদস্য সংগ্রহ করে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া উচিত—তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, সীমান্তবর্তী খুলনার দিঘলিয়ার কয়েকটি গ্রামে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ দিয়েছে সমিতিটি। এছাড়া অভিযোগ আছে যে, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে উচ্চ সুদ আদায় করা হয়, দৈনিক ও সাপ্তাহিক কিস্তি নেয়ার সময় দেরি হলে সদস্যদের প্রতি কটু ব্যবহার করা হয় এবং গালাগাল ও অনৈতিক প্রস্তাব রাখার ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কিস্তি দিলেও তা সদস্যের বইতে নথিভুক্ত না করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে—এমনও অভিযোগ তাদের।

গাজীরহাটের ব্যবসায়ী হৃদয় রায় জানান, তাঁর বাবাও এক ‘দৈনিক’ কিস্তির ঋণ নিয়েছিলেন; ব্যবসা খারাপ হওয়ায় একদিন কিস্তি দেওয়া না পারায় সোহাগ কর্তৃক হুমকি দেয়া হয়। এমন ভয়ে তাঁর বাবা দোকান বন্ধ করে গোপালগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি দোকান খুললে সোহাগের লোক এসে আবারও কটু কথা বলেছেন—এইভাবে মন্তব্য করেন হৃদয়।

কাপড় ব্যবসায়ী রিপন সাহা বলেন, তিনি সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন; কিস্তি দিতে না পারলে দোকান বন্ধ করতে বলা হতো এবং গালিগালাজ করা হতো। রিপন আরো জানান, সোহাগের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক পরিবার অতীতে এলাকায় থাকতে পারেনি এবং কেউ কেউ এলাকার বাইরে চলে গেছে।

মানববন্ধনে বলা হয়, এক ব্যক্তিকে দ্বিগুণ কিস্তি আদায়ের অভিযোগে পরে সালিশ হয় এবং ওই গ্রাহকের দায় ফেরত দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন—মানুষকে নিঃস্ব করা এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করুন; যে যারা সোহাগের ভয়ে বঞ্চিত হয়ে দূরে গেছেন, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন; এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মৃধার বক্তব্যও নেওয়া হয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে গাজিরহাট বাজারটি দুই জেলায় সীমান্তবর্তী হওয়ায় সামাজিক বিবেচনায় তিনি দিঘলিয়া এলাকার অনেককে ঋণ দিয়েছিলেন এবং এজন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন—এবং ওখানে আর ঋণ দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তবে পরিমাপের বাইরে থাকা অপর অভিযোগ—কিস্তিতে চাপ, গালিগালাজ, নারীদের কুপ্রস্তাব ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া—তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোহাগ বলেছেন, এসব মিথ্যাচারের পেছনে ব্যক্তিগত বিবাদ ও ব্যবসায়িক বিরোধের জের থাকতে পারে এবং তিনি বড় কোনো রাজনৈতিক নেতার হিসাবে এসব কার্যকলাপে জড়িত নন।

কালিয়া উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক প্রশান্তু কুমার দাস জানান, এখন পর্যন্ত তাদের দফতরে এসব ধরনের অভিযোগ এসেছে না; অভিযোগ পেলে তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্থানীয়রা এখন দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে সমস্যার সমাধান হয় এবং কোনও নির্বাসিত পরিবার নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫


নড়াইলে সমবায় সমিতি সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ — বিচারের দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার গাজীরহাট বাজারে মাতৃছায়া কৃষি সমবায় লিমিটেডের সভাপতি সোহাগ মৃধা বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে; মঙ্গলবার নয়, আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা তাদের ব্যানারে একযোগে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন। বক্তব্য রাখেন সামিরুল শেখ, আনোয়ার হোসেন, মো. হিমেল, বুলু মোল্যা, রিপন সাহা, হৃদয় রায় ও জহিরুল ফকির প্রমুখ।কালিয়া থেকে নিবন্ধিত এই সমবায় সমিতিটি মূলত কালিয়ার হামিদপুর, পেড়লি, পাঁচগ্রাম ও চাঁচুড়ী ইউনিয়নেই সদস্য সংগ্রহ করে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া উচিত—তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, সীমান্তবর্তী খুলনার দিঘলিয়ার কয়েকটি গ্রামে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ দিয়েছে সমিতিটি। এছাড়া অভিযোগ আছে যে, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে উচ্চ সুদ আদায় করা হয়, দৈনিক ও সাপ্তাহিক কিস্তি নেয়ার সময় দেরি হলে সদস্যদের প্রতি কটু ব্যবহার করা হয় এবং গালাগাল ও অনৈতিক প্রস্তাব রাখার ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কিস্তি দিলেও তা সদস্যের বইতে নথিভুক্ত না করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে—এমনও অভিযোগ তাদের।গাজীরহাটের ব্যবসায়ী হৃদয় রায় জানান, তাঁর বাবাও এক ‘দৈনিক’ কিস্তির ঋণ নিয়েছিলেন; ব্যবসা খারাপ হওয়ায় একদিন কিস্তি দেওয়া না পারায় সোহাগ কর্তৃক হুমকি দেয়া হয়। এমন ভয়ে তাঁর বাবা দোকান বন্ধ করে গোপালগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি দোকান খুললে সোহাগের লোক এসে আবারও কটু কথা বলেছেন—এইভাবে মন্তব্য করেন হৃদয়।কাপড় ব্যবসায়ী রিপন সাহা বলেন, তিনি সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন; কিস্তি দিতে না পারলে দোকান বন্ধ করতে বলা হতো এবং গালিগালাজ করা হতো। রিপন আরো জানান, সোহাগের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক পরিবার অতীতে এলাকায় থাকতে পারেনি এবং কেউ কেউ এলাকার বাইরে চলে গেছে।মানববন্ধনে বলা হয়, এক ব্যক্তিকে দ্বিগুণ কিস্তি আদায়ের অভিযোগে পরে সালিশ হয় এবং ওই গ্রাহকের দায় ফেরত দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন—মানুষকে নিঃস্ব করা এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করুন; যে যারা সোহাগের ভয়ে বঞ্চিত হয়ে দূরে গেছেন, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন; এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মৃধার বক্তব্যও নেওয়া হয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে গাজিরহাট বাজারটি দুই জেলায় সীমান্তবর্তী হওয়ায় সামাজিক বিবেচনায় তিনি দিঘলিয়া এলাকার অনেককে ঋণ দিয়েছিলেন এবং এজন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন—এবং ওখানে আর ঋণ দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তবে পরিমাপের বাইরে থাকা অপর অভিযোগ—কিস্তিতে চাপ, গালিগালাজ, নারীদের কুপ্রস্তাব ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া—তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোহাগ বলেছেন, এসব মিথ্যাচারের পেছনে ব্যক্তিগত বিবাদ ও ব্যবসায়িক বিরোধের জের থাকতে পারে এবং তিনি বড় কোনো রাজনৈতিক নেতার হিসাবে এসব কার্যকলাপে জড়িত নন।কালিয়া উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক প্রশান্তু কুমার দাস জানান, এখন পর্যন্ত তাদের দফতরে এসব ধরনের অভিযোগ এসেছে না; অভিযোগ পেলে তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্থানীয়রা এখন দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে সমস্যার সমাধান হয় এবং কোনও নির্বাসিত পরিবার নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসতে পারে।

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৫ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত