সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওপেন নিউজ ২৪

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকে হুমকির অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথায় নিজ বাড়ি থেকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়া পথে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের রামকান্তুপুর-বাহিরদিয়া দাসে বাড়ি তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। হুমকির ঘটনায় উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সালথা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি। তিনি আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের মো. আলতাফ শেখের ছেলে।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভাগদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে সালথা বাজার যাচ্ছিলেন সাংবাদিক সাইফুল। পথে রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর-বাহিরদিয়া দাসে বাড়ি তিন রাস্তার মোড় এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন যুবক তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তাকে ঘেরাও করে ওই যুবকরা নানা ধরনের হুমকি দেন। তারা প্রশ্ন তোলে বলেন, তুই শুধু শামা ওবায়েদের নিউজ করিস কেন? উত্তরে সাংবাদিক সাইফুল বলেন, সাংবাদিক হিসেবে সালথার ঘটে যাওয়া সব বিষয়েই তিনি সংবাদ করেন।তখন পাল্টা হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা বলেন, কাল রাতে তোর গ্রামে ধলা হুজুরের মিটিং হয়েছে, সেই নিউজ করিস নাই কেন? উত্তরে সাইফুল বলেন, গতকাল এলাকায় তিনি ছিলেন না, তাছাড়া ওই মিটিং সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এরপর অভিযুক্ত যুবকরা বলেন, গতকাল বুড়িদিয়া বাজারে রিকশা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের পক্ষের লোকদের ওপর বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে- সে বিষয়ে সংবাদ করিসনি কেন? বাহিরদিয়ার একটি ঘটনায় শামা ওবায়েদ অভিযোগ করলে, সেই নিউজ করেছিস, শামা ওবায়েদ কি তোর মা হয় নাকি?, অথচ হুজুরেটা করলি না কেন? পরে উত্তেজিত হয়ে ওই যুবকরা বলেন, ১২ তারিখের পর তোর হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙ্গে দিয়ে সাংবাদিকতা শেখানো হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক। সব সময় চেষ্টা করি নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করার। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ করে যদি এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এমন অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।এ বিষয় ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী বলেন, আমি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছি। কারা এই হুমকি দিয়েছে, তা আমি জানি না। আমাকে হেয় করতে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা খোঁজখবর নিচ্ছি। এটা খুবই দু:খজনক ঘটনা। সাংবাদিকরা তাদের কাজ করবে, এখানে হুমকি কেন দেওয়া হবে।   সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সাইফুলকে হুমকি দেওয়া যুবকদের যদি দ্রত শনাক্ত করা না হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনে যাবো। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং হুমকিদাতাদের দ্রত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এভাবে নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিকতা করা সম্ভব না। আমরা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।সালথা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক সাইফুলকে হমকির বিষয় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকে হুমকির অভিযোগ