বীরগঞ্জে বসতবাড়ির রাস্তায় টয়লেট নির্মাণ করে জন চলাচল ও কৃষি পণ্য পরিবহনে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে ৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি গ্রামের বাসিন্দা মৃত দারাজ শাহ্'র ছেলে গোলাম মোস্তফা(৬০) ও একই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আঃ জব্বারের ছেলে মোঃ মুক্তার(৩৫) সহ ওয়ারিশগনের ছয়ঘটি মৌজার ৪৫১ দাগের ২০শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো৷ এরই ধারাবাহিকতায় বিরোধীয় জমিতে প্রায় ৭০/৮০ বছর ধরে চলমান রাস্তা দিয়ে ১২টি পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে আসছে৷ সম্প্রতি প্রায় ৮বছর আগে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে উল্লেখিত রাস্তায় জোরপূর্বক জবরদখল করে পাকা টয়লেট নির্মাণ করেন মোস্তফা ৷ সেসময় বাঁধা প্রদান করলে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ ও মতপার্থক্য দেখা দেয় ৷ এব্যাপারে বীরগঞ্জ থানায় আপোষ-মিমাংশার বৈঠকের পর উক্ত রাস্তায় নির্মিত টয়লেট ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ কিন্তূ এই সিদ্ধান্তকে না মেনে মোস্তফা গং প্রতিপক্ষের লোকজনদের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেই আসছিলো৷ গত ৫ই আগষ্টে ফেসিষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুনরায় রাস্তা থেকে টয়লেট সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ এরই একপর্যায়ে গত ২২ মার্চ ২০২৬ ইং বেলা আনুমানিক ১২টায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে মোস্তফা,মোস্তফার ছেলে রাসেল , জোসনা,মামুনুর রশিদ,আলমগীর দলবদ্ধ হয়ে মুক্তারের পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধরক মারপিট করে ও প্রাননাশের উদ্দেশ্যে গলা চিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালায়৷ এসময় মুক্তারের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে৷ এ ব্যাপারে অপরাপর ভুক্তভোগী আইনুল ইসলামের ছেলে মাহফুজ পারভেজ (১৮) জানান, একই দিন রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক প্রায় ৩ টায় বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাড়ির বাহিরে বের হলে দেখে মোস্তফার পরিবারের সদস্যরা নিজেরা সহ অপরিচিত কয়েকজন মিলে উক্ত টয়লেটটি ভেঙ্গে ফেলছে৷ এসময় আতংক ও ত্রাস সৃষ্টি করায় বাসার ভিতরে আসলে সন্রাসীরা ইট,পাটকেল নিক্ষেপ করলে তাদের বাড়ির টিন ফুটোফাটা হয়৷ মাহফুজ পারভেজ আরোও জানায়, পরদিন সোমবার সকালে থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসলে রাতের আধারে নিজেরাই নিজেদের টয়লেট ভেঙ্গে আইনী হয়রানি ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই প্রতিপক্ষের মিথ্যা ,বানোয়াট সাজানো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত তাদের বোধগম্য হয় ৷ ঘটনার সত্যতা জানতে সরেজমিনে ছয়ঘটি গ্রামে গেলে আলহাজ্ব জবির উদ্দিন শাহ্'র ছেলে আবু বক্কর, মোশারফ হোসেন সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অনেকেই তাদের মতামত ব্যক্ত করে জানান, এই রাস্তা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে যার সুরাহা হওয়া প্রয়োজন ৷ সর্বোপরি চলাচলের এই রাস্তা উদ্ধার করা সহ এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন পূর্বক আশু হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতার জোর দাবী জানিয়েছেন নির্যাতিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা ৷