ওপেন নিউজ ২৪

আত্মহত্যা

গলাচিপায় সালিশ বৈঠকে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গৃহিনীর আত্মহত্যা

গলাচিপায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক গৃহিনী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সকালে গলাচিপা  সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের গৃহিনী স্বামী পরিত্যাক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাধেঁর উপর ছেলে ও ছেলের স্ত্রী নিয়ে বসাবাস করত। মাস দুইয়েক আগে বেড়ি বাধেঁ সংস্কার কাজের জন্য উচ্ছেদ হয়ে পড়লে পাশে ঝুপড়ি দিয়ে বসবাস করতো। কয়েকদিনে আগ থেকে পাশের বাড়ির আলমগীর মাষ্টারের ঘরের বারান্দায় রাতে ঘুমাত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই ঘর থেকে আলমগীরের স্ত্রীর ১২আনা সোনা ৪ ভরি রুপার গহনা হারায়। এঘটনায় আলমগীর সিকদারের পরিবার সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল পড়া খাওয়ায়ে সেলিনাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম (২২) অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে জসিম খান, রিয়াজ খান, নিউজ সিকদার, মিজান সিকদার, শামীম সিকদারসহ ৪/৫ আমার মাকে মারধর করে চাল পড়া খাইয়ে স্বীকারউক্তি নিয়ে ৩ শত টাকার স্ট্যাম্পে আমার মা, আমার স্ত্রী ও আমার স্বাক্ষর নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম(৫৫) জানান, সিকদার বাড়ির লোকজন সেলিনাকে মারধর ও প্লাশদিয়ে নখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়। ওই এলাকার বাসিন্দা খবির ও  মোশাররফ মুন্সি  জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত সেলিনা অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করছে, কখনো শুনিনি বা দেখিনি সেলিনা চুরি করেছে।  সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম স্ত্রী সারমিন আক্তার জানায়, আজ আমরা পাশের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর পোনে ৬টা দিকে শাশুড়ি আমার স্বামীর ফোনে মিস কল দেয়। ফোনে টাকা না থাকায় আমরা ঘরে এসে দেখি মারা গেছে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হাওয়া সোনা ও রুপা আজকে দেয়ার কথা ছিল। আমার শাশুড়ি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে।সালিশদার সিরাজুল সিকদার ৩শত টাকার স্ট্যাম্প রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি।চুরি হওয়া সোনার মালিক আলমগীর মাষ্টার জানায়, ১৭ মার্চ থেকে আমার স্ত্রীর কিছু গহনা হারিয়েছে। আমি স্থানীয় লোকজনকে চুরির বিষয় জানালে তারা সেলিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করে, আজকে চুরির মালামাল ফেরত দেয়ার কথা ছিল।  গলাচিপা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে  ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গলাচিপায় সালিশ বৈঠকে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গৃহিনীর আত্মহত্যা