বীরগঞ্জ, দিনাজপুর। প্রতিনিধি ||
বৈধ দলিল ও কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যুদের হামলা, দখলচেষ্টা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে জানানো হয়, বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা মৌজার ১৫০ দাগের ৮৯ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মরহুম আফজাল হোসেন। তিনি ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে পৃথক দুটি দলিলের মাধ্যমে মোট ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে নিজ নামে খাজনা খারিজসহ সর্বশেষ জরিপে তার ও তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের নামে খতিয়ানভুক্ত হয় জমিটি।তারা আরও জানান, ২০১৩ সালে জমিতে ইউক্যালিপটাস বাগান গড়ে তোলা হলে বর্তমানে তা মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে আফজাল হোসেন মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী, এক কন্যা ও তিন পুত্র উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। তাদের মধ্যে দুই পুত্র দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন।অভিযোগে বলা হয়, জমির মালিকানা পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বারবার জমি দখলের চেষ্টা করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তরা জমিটিকে কবরস্থান বলে দাবি করলেও সরকারি রেকর্ডে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং এটি দখলের অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।ঘটনার বিবরণে জানানো হয়, গত ১৯ এপ্রিল বাগানের গাছ কাটা প্রতিহত করতে গেলে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে ওই জমিতে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে এবং উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুইজনকে আটক করায়।এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ এপ্রিল রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দ্রুত এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পূর্বের মামলাগুলোও চলমান রয়েছে।প্রবাসী উত্তরাধিকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আঞ্জুয়ারা বেগম। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।