সাইফুল ইসলাম মারুফ ||
ফরিদপুরের
সালথা উপজেলায় একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে
দেওয়ায় ১৫টি পরিবারের শতাধিক
মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ফলে
চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি সেবা থেকে শুরু
করে শিক্ষা ও কৃষিকাজ সব
ক্ষেত্রেই মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার
(৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের খর্দ লক্ষনদিয়া গ্রামের
কাজী বাড়ি সড়ক এলাকায়
সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র
দেখা যায়।স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন
ধরে পূর্বপুরুষদের সময় থেকে হিরু
কাজী, খোকা কাজী, লাভলু
কাজী, টুনু কাজী, টিপু
কাজী, তাইফুর কাজী, আনিস কাজী, মিরন
কাজী, মিশন কাজী, শাহিন
কাজী, ইব্রাহিম কাজী, তুহিন কাজী, রবিন কাজী, সুমন
কাজী ও রিফাত কাজীসহ
একাধিক পরিবার এই পথ ব্যবহার
করে আসছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের
উদ্যোগে এবং ইউনিয়ন পরিষদের
সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়।
তবে মাঝপথে বাধার মুখে পড়ে কাজ
বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয়দের
অভিযোগ, রাস্তার প্রায় ৩০ ফুট অংশ
নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মৃত
লাল কাজীর ছেলে মজিবুর কাজী
কাজ বন্ধ করে দেন।
এতে করে ওই অংশটি
অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং
পুরো রাস্তা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।ভুক্তভোগীরা
জানান, বর্তমানে তারা চরম দুর্ভোগের
মধ্যে রয়েছেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল জমি থেকে
বাড়িতে আনতে পারছেন না,
শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায়
জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।স্থানীয়
বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব টুনু কাজী বলেন,
আমরা পূর্বপুরুষের সময় থেকে এই
পথ ব্যবহার করে আসছি। প্রধান
সড়ক থেকে আমাদের বাড়ি
পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট রাস্তা
রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র
৩০ ফুট জায়গা নিয়ে
বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা আজ অবরুদ্ধ
হয়ে পড়েছি। আরেক
ভুক্তভোগী টিপু কাজী বলেন,
এটাই আমাদের একমাত্র পথ। ২০২৩ সালে
চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় রাস্তার অনুমোদন নেওয়া হয়। শুরুতে কোনো
সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ
করে বাধা দেওয়া হয়।
এখন আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না,
স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা
দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে করে অবরুদ্ধ
পরিবারগুলো স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ ফিরে পায় এবং
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।অভিযোগের
বিষয়ে জানতে মজিবুর কাজী বলেন, এটা
চলাচলের কোনো পথ না।
এটা একটা বাগান। জায়গাটি
আমার ব্যক্তিগত জায়গা। তাই আমি ঘিরে
রেখেছি। এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল
না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সালথা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন,
বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।