আল আমিন হাওলাদার ||
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানার বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে সীমিত পরিসরে ও কিছুটা আড়ম্বরহীনভাবে। গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে ইউএনও'র কোয়ার্টার সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এ বিদায় আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদায়ী আফরোজা আফসানা ইউএনও’র সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ খুব একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল না। ফলে বিদায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সীমিতসংখ্যক সদস্যরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইউএনও আফরোজা আফসানার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বিদায় অনুষ্ঠানের যে আন্তরিকতা ও সম্মিলিত উপস্থিতি প্রত্যাশিত, তার ঘাটতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।স্থানীয় ও সুশীল সমাজের মতে, একজন উপজেলা প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তার বিদায়ে সকল দপ্তরের সম্মিলিত অংশগ্রহণ থাকা উচিত ছিল। এ ধরনের অনুপস্থিতি প্রশাসনিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।সবমিলিয়ে, ইউএনও আফরোজা আফসানার বিদায় অনুষ্ঠানটি ছিল একদিকে আনুষ্ঠানিক, অন্যদিকে কিছুটা বেদনাবিধুর ও প্রশ্নবিদ্ধ—যা স্থানীয় প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।অফিসার্স ক্লাবে বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভারপ্রাপ্ত ইউএইচ এফপিও ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন,আমার দাপ্তরিক একটি জুম মিটিং ছিল, তাই উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, গতকালকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারের প্রোগ্রাম শেষ করে জেলা স্যারকে নিয়ে আমি নেত্রকোনা চলে আসছি এজন্য থাকতে পারিনি। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি দিনভর মাঠে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করছিলাম। বিকেলে ডেপুটি স্যারের প্রোগ্রাম ছিল। পরে শরীরটা একটু খারাপ লাগছিল তাই বিদায় অনুষ্ঠানের থাকতে পারিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার নিপা বিশ্বাস জানান, আমারও ইচ্ছে ছিল বিদায়ী অনুষ্ঠানে থাকার কিন্তু নানু শ্বাশুড়ি মারা যাওয়ায় আমি থাকতে পারিনি।উপজেলা মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনসারী জানান,আমি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো সময় অফিস করি। চেষ্টা করেও সময় মিলাতে পারিনি। উপজেলার উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আলী আজগর জানান,দিনভর অনেক ব্যস্ততা ছিল। রাতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকাই স্টেশন লীভ করেছি। তাই থাকতে পারিনি। এ বিষয়ে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিদায় অনুষ্ঠানটি অতীতের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে। তবে সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবস বৃহস্পতিবার থাকায় অনেকে ইউএনও মহোদয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে চলে গেছেন। উপজেলার সমন্বয় কমিটির ২৮ জন মেম্বার রয়েছেন। তন্মধ্যে অনেকেই ক্যাডার ও নন কাড্যার অফিসার রয়েছেন। ওই বিদায় অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান, ওসি তদন্ত শাহিন তালুকদার, দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. হাফিজুর রহমান,একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন,উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তদন্তকারী উৎপল চন্দ্র সরকার।