আল আমিন হাওলাদার ||
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আয়োজিত এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমার কাছে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান বা কে হাজং— সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। কে কোন দল বা মতের, সেটাও মুখ্য নয়। আমার কাছে বিবেচ্য হলো একজন মানুষের মেধা ও মনন। মেধা ও মননের ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।”তিনি আরও বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভাজন নয়, ঐক্যের মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব— এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবহেলিত কলমাকান্দাকে একটি আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও সংস্কৃতিমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘মডেল কলমাকান্দা’ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।অনুষ্ঠানে পৌঁছালে জনতা কালচারাল একাডেমির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বর্ণিল সাজে, হাতে প্ল্যাকার্ড ও ফুল নিয়ে ডেপুটি স্পিকারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। শিশুদের এমন আন্তরিক আয়োজনে তিনি অভিভূত হন এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটান, খোঁজখবর নেন ও ভবিষ্যতের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। একাডেমির শিক্ষার্থীরা দলীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে একাডেমির ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।এছাড়া রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত একাডেমির মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান অতিথি। আলিফের গানের প্রতি আগ্রহ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার কণ্ঠে গান শোনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে তার পরিবেশনা উপভোগ করেন। গান শেষে আলিফের প্রতিভার প্রশংসা করে তাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন।পরবর্তীতে জনতা কালচারাল একাডেমির পক্ষ থেকে আলিফকে একটি পাঞ্জাবি উপহার প্রদান করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসাহ, প্রেরণা ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক সুন্দর সমন্বয়, যা কলমাকান্দার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।