মোঃ মনিরুজ্জামান মুন্না ||
মহান জাতীয় সংসদের প্রতিটি কার্যদিবসে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, যার বড় একটি অংশ পরোক্ষভাবে আসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। তাই সংসদের প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান এবং তা জনগণের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যবহার করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন Advocate ANM Essa, “দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে সময় নষ্ট ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করতে হবে—জনগণের অর্থের মর্যাদা রক্ষা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, অতীতে সংসদের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে কখনও গান গাওয়া, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়া বা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের মতো ঘটনা দেখা গেছে। এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-কে নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তিগত মঞ্চ নয়। এটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে জনগণের সমস্যা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রবাসী কল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া উচিত। সংসদের মূল্যবান সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনায় নষ্ট করা মানে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয়।”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখ লাখ রেমিটেন্স যোদ্ধা কঠোর পরিশ্রম করে যে অর্থ দেশে পাঠান, তা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সংসদের প্রতিটি মিনিটের মূল্য সেই প্রবাসী শ্রমিকের ঘামের সাথে জড়িত।”সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে সময় নষ্ট না করে জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিন। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। দেশের মানুষের অর্থ এবং গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করুন।”বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য নতুন সংসদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তার মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে।এ বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার)। পাশাপাশি সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ফারুক আহমেদ চৌধুরী (যুগ্ম আহ্বায়ক), মোসাদ্দেক মিয়া মানিক (আহ্বায়ক, যুক্তরাজ্য কমিটি) এবং সৈয়দ খালেদ মিয়া ওলিদ (যুগ্ম আহ্বায়ক, যুক্তরাজ্য কমিটি) এ দাবির প্রতি সমর্থন জানান।