সাইফুল ইসলাম মারুফ ||
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাজারে দোকান চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চাপ ও অপমানের অভিযোগের মধ্যে বিষপান করে এক নৈশপ্রহরীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। শনিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজারে শালিশ চলাকালে তিনি বিষপান করেন বলে পারিবারিক ও বাজার কমিটির সূত্রে জানা গেছে।নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম বলেন, তার স্বামী বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিছু জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা এড়িয়ে যেতেন। পরে জানান, তার ডিউটির সময় বাজারে চুরি হয়েছে এবং এ ঘটনার দায়ে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্ত্রীকে তিনি বলেন, “জরিমানা দেব কোথা থেকে, শরমের চেয়ে মরণ ভালো।”তিনি আরও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি শালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ডিউটিতে থাকা পাহারাদাররা ভাগাভাগি করে ক্ষতিপূরণ দেবেন। একপর্যায়ে ওয়াহিদুল ইসলাম সরে গিয়ে পরে ফিরে এসে তিন সন্তানের কথা উল্লেখ করে বলেন, চুরির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার বলেন, এক দোকানে টিন কেটে চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বৈঠকে পাহারাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং চোর শনাক্ত না হলে ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে তাকে অপবাদ দেওয়া হয়নি এবং সময় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।বাজারের তহবিল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্লা জানান, বাজারে দুইজন পাহারাদার মাসে ২৪ হাজার টাকা বেতন পান। নির্বাচনের আগে এক রাতে পেছনের টিন কেটে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় বৈঠকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা চলাকালে ওয়াহিদুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পাহারাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঢলে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।