মোঃ কারিমুল ইসলাম ||
সুন্দরবনের বিলুপ্তপ্রায় ডলফিন সংরক্ষণে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বনজীবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ১৩ লাখ ডলার বন বিভাগ ও দুটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগী বনজীবী ও জেলেরা সেই সহায়তা পাননি।অভিযোগ অনুযায়ী, ডলফিনের আবাসস্থল রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলে ও বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা দেয় ইউএনডিপি। ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বন বিভাগ এবং দুটি এনজিও যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।সুন্দরবনে লবণাক্ত পানিতে ইরাবতি ডলফিন এবং মিষ্টি পানিতে গাঙ্গেয় ডলফিনের বসবাস। তবে এই দুই প্রজাতির ডলফিনই সুন্দরবনে দেখা যায়। বিলুপ্তপ্রায় এসব ডলফিন সংরক্ষণের অজুহাতে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করা হলেও বাস্তবে তাদের বিকল্প জীবিকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ।স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,‘আমাদের পানিতে নামা যাবে না, সুন্দরবনে পাস ছাড়া যাওয়া যাবে না। তাহলে আমরা চলব কীভাবে?’আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান,‘প্রকল্প থেকে আমাকে একটা দোকান দেওয়া হয়েছিল। অভাব অনটনে পড়ে দোকানের মাল নিজেই খেয়ে ফেলতে হয়েছে। পরে আবার দাদন নিয়ে একটা নৌকা আর জাল কিনেছি।’ডলফিন সংরক্ষণ প্রকল্পের দলনেতা মোঃ সুমন স্বীকার করেন, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন,‘জেলে ও বাওয়ালিদের তালিকায় অনেক এমন লোকের নাম এসেছে, যারা প্রকৃত বনজীবী নন।’তবে অর্থ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও কোডেকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার জয়নাল আবেদীন জয়। তার দাবি,‘এক হাজার বনজীবীকে ৪০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’'প্রকল্পের আরেক অংশীদার এনজিও সিএনআরএসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,‘প্রকল্পের আওতায় বনজীবী ও জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন দাবি করে বনজীবী ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হলে আজও জেলেদের জীবিকা নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা থাকত না।