সাইফুল ইসলাম মারুফ ||
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক নির্বাচনী সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, বাংলাদেশের যত ভালো কাজ ও সংস্কার হয়েছে, তা বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে, বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে, এবং ভবিষ্যতে তারেক রহমানের হাত ধরেই হবে।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে সালথা সরকারি কলেজের পাশে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মানুষ হিমালয় জয় করছে, বিদেশে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। অথচ সালথা উপজেলায় এখনো কাঁচা রাস্তা, যেখানে আমাদের মা-বোন, মুরুব্বিরা কষ্ট করে চলাফেরা করেন। নাগরিক হিসেবে এসব আমাদের অধিকার, যেগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আমরা সংসদে যেতে পারি, তাহলে সালথাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না। এখানেই হাসপাতাল, মিল-কারখানা হবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আমাদের ভাই-বোনরা এখানেই চাকরি করতে পারে। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বহু তরুণ-তরুণী প্রাণ দিয়েছে শুধু বৈষম্যের কারণে। একজন টাকা দিয়ে তদবির করে চাকরি পায়, আরেকজন যোগ্য হয়েও পায় না। আমি নিশ্চিত করতে চাই, নগরকান্দা-সালথার কোনো ছেলে-মেয়েকে এক টাকাও ঘুষ দিতে হবে না, কোনো তদবির করতে হবে না—যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পাবে।আলেম-ওলামাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বাবা (বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান) সারা জীবন আলেম-ওলামাদের সম্মান দিয়েছেন এবং মাদ্রাসা-মসজিদে সহায়তা করেছেন। আমি চাই এখানকার মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার হোক, এমপিওভুক্ত করা হোক। এটা আমি আমার একটি বিশেষ প্রকল্প হিসেবে নিয়েছি। শিক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মা একজন শিক্ষিকা। আমি শিক্ষার মধ্যেই বড় হয়েছি। আমি চাই সালথার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে যাক। শিক্ষা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব না।তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উন্নয়নের কথা শুধু বলে না, করে দেখায়। এই দলের পতাকাতলে সকল ধর্ম, সকল মতের মানুষ নিরাপদ। আলেম-ওলামা, সকল ধর্মের মানুষ, সকল মতের মানুষ কেবল ধানের শীষের কাছে, বিএনপির কাছে নিরাপদ। বিএনপির ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন করেছে, বাড়িতে থাকতে পারেনি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু যখনই দেশে বিপদ এসেছে কোভিড, বন্যা—বিএনপিই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং ভোটাধিকার থাকবে কি না। এ সময় তিনি গণভোটে “জুলাই সনদ”-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। শেষে তিনি বলেন, আমরা প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখবো না। ধানের শীষে ভোট চাইবো। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আমি কথা দিচ্ছি, সালথা ও নগরকান্দার মাটিতে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হতে দেওয়া হবে না।এসময় সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে ও যুবদল নেতা এনায়েত হোসেনের সঞ্চালনায় সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হাফেজ মোঃ মাসুম বিল্লাহ, সালথা উপজেলা বিএপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবুল বাসার, বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ, আব্দুর রব, যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, মিরান হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, ছাত্রদল নেতা রেজাউল ইসলাম রাজ, সালথা সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সামচুল আলম সবুজসহ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।