নাঈম, সহ-সম্পাদক ||
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দালালচক্রের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ২৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। গত ০২ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া একটি আবেদনে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে (স্মারক নং ২১৮৫) রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক নায়েব এম.এ মান্নান, সাবেক নায়েব মোঃ নূর এ আলম, মোঃ সোলায়মান সরকার, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার ও একাধিক দালালের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখলে সহায়তা, ঘুষ-জালিয়াতি ও সেবার নামে হয়রানির মতো ঘটনার কথা বলা হয়।প্রধান অভিযোগসমূহ:>অফিসের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি, ভবনের টিন এবং অফিস কাচারিবাড়ির পড়ে যাওয়া কাঠাল ও মেহগনি গাছের কাঠ চুরি ও আত্মসাৎ। > খাস জমি থেকে ঘুষের বিনিময়ে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া। >সরকারি গো-হাল জমি অবৈধ দখলকারীকে বহুতল ভবন নির্মাণে সহায়তা করা। >'ক' তফসিলভুক্ত সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়া। > জমি রেকর্ডে অবৈধ শ্রেণি পরিবর্তন, একই জমি একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি, আদালতের রায় উপেক্ষা করে নামজারির মতো অনিয়ম। > সেবা প্রদানের নামে হয়রানি, পক্ষপাতিত্ব, উচ্চস্বরে গালাগালি ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার।আবেদনকারীদের মতে, পূর্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি), শ্রীপুরের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলেও শুনানি ও তদন্ত প্রক্রিয়া সন্তোষজনক ও ন্যায়সঙ্গত হয়নি। তারা দাবি করেন, স্থানীয় দালাল শহিদুল ইসলাম খান, বাদল, সেলিম, সাইফুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর নয়ন প্রমুখের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে।আবেদনকারী মোঃ জহিরুল ইসলাম এলাকাবাসীর পক্ষে বলেন, “এ দুর্নীতির ছোবলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সরকারি সম্পত্তি লুট হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি প্রাপ্তির পর প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় শিগগিরই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান, পূর্বতন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত ও শুনানি গ্রহণপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, বর্তমান শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পূর্বে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজাবাড়ী ইউনিয়নবাসীর একটাই দাবি – ভূমি অফিস দালালমুক্ত হোক এবং সাধারণ মানুষ যেন সঠিক সেবা পায় ও ভোগান্তির শিকার না হয়।