নড়াইল প্রতিনিধি ||
কেই বসে আছে পরিষদের বারান্দায়, কেউ পরিষদের বাইরে ভ্যানে, আবার কেউ ফাইল পত্র নিয়ে এক বার উপরে এক বার নিচে ঘুরছেন, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সেবা প্রত্যাশীরা। কেউ এসেছেন ওয়ারিশ কায়েম সার্টিফিকেট নিতে, কেউবা ট্যাক্স টোকেন, আবার নাগরিক সনদপত্র। এই চিত্র নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের।ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.হাবিবুর রহমান নিয়মিত অফিস না করায় এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণের। কাওয়ার মোল্যা চাকুলিয়া গ্রাম থেকে ওয়ারিশ কায়েম সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন সত্তুর্থ কাওসার মোল্যা। সকাল ১০টায় এসে পরিষদের বারান্দায় একটি বেঞ্চে বসে আছেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, এক সার্টিফিকেট নিতে তিন দিন পরিষদে এসেছি। আজ সকাল ১০টায় এসে বসে আছি। এখনও চেয়ারম্যানের খবর নাই। কবে আসবে জানি না। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে চাই। সেবা নিতে আসা বেল্লাল শেখ নামে আরেক সেবা প্রত্যাশী বলেন, প্রায় সময় অফিস বন্ধ থাকে। পরিষদে তালা ঝোলানো থাকে সব সময়। আমাদের কাজ বাদ দিয়ে প্রতিদিন এখানে আসা সম্ভব না। কিন্তু কাগজে স্বাক্ষর দরকার, তাই বারবার আসছি।আমি ভ্যান চালায় খাই। তিন দিন ধরে পরিষদে আইছি।আসে চেয়ারম্যানরে পাই না।আমি গরীব মানুষ এখানে ওয়ারিশ কায়েম সার্টিফিকেট নিতে এসেছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, তৎকালীন চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর হাবিবুর রহমান প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে খামখেয়ালি ভাবে পরিষদ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ইউপি পরিষদের ৭ জন সদস্য তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান উন্নয়ন খাতের অর্থের অপব্যবহার করেছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অফিসের ল্যাপটপ, চেয়ার, টেবিল ও প্রিন্টার ক্রয়ের পরিবর্তে পুরাতন সামগ্রী মেরামত দেখিয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে মহিলা সদস্যদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হলেও, তাদের ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিজেই টাকা তুলে নেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে— মাসিক সভা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় না, গ্রাম আদালত ও অন্যান্য সভাও তিনি ডাকেন না। তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অফিসে নিয়মিত না থাকায় সাধারণ মানুষ পরিষদের সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি নিজের বাড়ির সামনের( ইটের সলিং) রাস্তা, নতুন প্রকল্প দেখিয়ে ২ লাখ টাকা এবং হাট-বাজার উন্নয়ন খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ এনেছে সে গুলো আমি জানি না। আমি সব ইউপি সদস্যদের দাবি দাবা মেনে নিয়েছি। উন্নয়ন সহায়তার কাজের ১২ লাখ টাকা দাবি করেছেন, আমি তাদের সব টাকা দিয়ে দিয়েছি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।