ওপেন নিউজ ২৪
সারাদেশ

সারাদেশ

মোবাইল আসক্তি: যুবসমাজ ঝুঁকিতে, ধংসের মুখে প্রজন্ম

মোবাইল আসক্তি: যুবসমাজ ঝুঁকিতে, ধংসের মুখে প্রজন্ম
প্রতিনিধি :- লিটন সিকদার

কালিয়ায় মোবাইল আসক্তি: যুবসমাজ ঝুঁকিতে, ধংসের মুখে প্রজন্ম।

--------------------------------

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইল আসক্তি এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম গঞ্জের যুবক, কিশোর এমনকি স্কুল–কলেজপড়ুয়া তরুণরা স্মার্টফোন ও অনলাইনভিত্তিক নানান গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ছে। দিনের পর দিন বাড়ছে চোখের ক্ষতি, কমে যাচ্ছে মনোযোগ, আচরণে আসছে নেতিবাচক পরিবর্তন। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার।


সচেতন মহলের মতে, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সন্তানদের ওপর যথাযথ নজরদারির অভাবেই এই অবক্ষয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মাঠে খেলাধুলা করার বয়সে কিশোর–তরুণরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে গেম খেলায় মগ্ন থাকে। পড়াশোনা, পারিবারিক দায়িত্ব, এমনকি কাজকর্ম—সবকিছুই তাদের কাছে গেমিংয়ের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবারিক কলহও।


সরেজমিনে ডুমুরিয়া, নড়াগাতী, খাশিয়াল, মাউলি, কলাবাড়িয়া, বাঐশোনা, যোগানিয়া, পহরডাঙ্গা, বাগুডাঙ্গা, চাপাইল, মূলশ্রী, চর মধুপুর, বল্যাহাটি, পাখিমারা, কচুয়াডাঙ্গা—এমন বহু এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। দলবেঁধে কিশোর–যুবকরা মোবাইল হাতে এক জায়গায় বসে আছে—গভীর মনোযোগে ফ্রি-ফায়ার বা অন্যান্য গেম খেলছে।


চাপাইলঘাট এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,

“কিশোর আর তরুণরা প্রতিদিন বাজারের আশেপাশে কিংবা ফাঁকা জায়গায় ঘন্টাখানেক নয়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকে। কী গেম খেলে আমরা বুঝি না, কিন্তু ভবিষ্যৎটা যে অন্ধকার—তা বোঝা যায়।”


একই এলাকার বাসিন্দা নিজাম মোল্লা ও অশোক দাশ বলেন,

“স্কুল–কলেজপড়ুয়া ছাত্রদের পাশাপাশি ভ্যানচালক, ইজিবাইকচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর—সকলেই এখন গেমের নেশায় মশগুল। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, দায়িত্ববোধ চলে যাচ্ছে।”


পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম জানান,

“আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করছি সচেতনতা তৈরি করতে। কিন্তু অভিভাবক ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আশ্চর্যের বিষয়, দারিদ্র পরিবারের অনেকেই সন্তানের হাতে দামী স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছে—এটাই বড় প্রশ্ন।”


স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গেম খেলার ফলে শুধু পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে না, বরং চোখের ক্ষতি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক অস্থিরতার মতো বিষয়ও বাড়ছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনলাইন গেম আসক্তিকে ইতোমধ্যে “রোগ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।


এ অঞ্চলের শিক্ষাবিদ ও সমাজ সচেতন মানুষরা বলছেন—যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, অভিভাবকদের কড়া নজরদারি ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই প্রজন্মকে মোবাইল গেমের মারাত্মক আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।


কালিয়া, নড়াইল

২৯/১১/২৫ইং

০১৭১৬ ৮০২২৩০

আপনার মতামত লিখুন

ওপেন নিউজ ২৪

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫


মোবাইল আসক্তি: যুবসমাজ ঝুঁকিতে, ধংসের মুখে প্রজন্ম

প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
কালিয়ায় মোবাইল আসক্তি: যুবসমাজ ঝুঁকিতে, ধংসের মুখে প্রজন্ম।--------------------------------নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইল আসক্তি এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম গঞ্জের যুবক, কিশোর এমনকি স্কুল–কলেজপড়ুয়া তরুণরা স্মার্টফোন ও অনলাইনভিত্তিক নানান গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ছে। দিনের পর দিন বাড়ছে চোখের ক্ষতি, কমে যাচ্ছে মনোযোগ, আচরণে আসছে নেতিবাচক পরিবর্তন। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার।সচেতন মহলের মতে, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সন্তানদের ওপর যথাযথ নজরদারির অভাবেই এই অবক্ষয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মাঠে খেলাধুলা করার বয়সে কিশোর–তরুণরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে গেম খেলায় মগ্ন থাকে। পড়াশোনা, পারিবারিক দায়িত্ব, এমনকি কাজকর্ম—সবকিছুই তাদের কাছে গেমিংয়ের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবারিক কলহও।সরেজমিনে ডুমুরিয়া, নড়াগাতী, খাশিয়াল, মাউলি, কলাবাড়িয়া, বাঐশোনা, যোগানিয়া, পহরডাঙ্গা, বাগুডাঙ্গা, চাপাইল, মূলশ্রী, চর মধুপুর, বল্যাহাটি, পাখিমারা, কচুয়াডাঙ্গা—এমন বহু এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। দলবেঁধে কিশোর–যুবকরা মোবাইল হাতে এক জায়গায় বসে আছে—গভীর মনোযোগে ফ্রি-ফায়ার বা অন্যান্য গেম খেলছে।চাপাইলঘাট এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,“কিশোর আর তরুণরা প্রতিদিন বাজারের আশেপাশে কিংবা ফাঁকা জায়গায় ঘন্টাখানেক নয়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকে। কী গেম খেলে আমরা বুঝি না, কিন্তু ভবিষ্যৎটা যে অন্ধকার—তা বোঝা যায়।”একই এলাকার বাসিন্দা নিজাম মোল্লা ও অশোক দাশ বলেন,“স্কুল–কলেজপড়ুয়া ছাত্রদের পাশাপাশি ভ্যানচালক, ইজিবাইকচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর—সকলেই এখন গেমের নেশায় মশগুল। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, দায়িত্ববোধ চলে যাচ্ছে।”পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম জানান,“আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করছি সচেতনতা তৈরি করতে। কিন্তু অভিভাবক ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আশ্চর্যের বিষয়, দারিদ্র পরিবারের অনেকেই সন্তানের হাতে দামী স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছে—এটাই বড় প্রশ্ন।”স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গেম খেলার ফলে শুধু পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে না, বরং চোখের ক্ষতি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক অস্থিরতার মতো বিষয়ও বাড়ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনলাইন গেম আসক্তিকে ইতোমধ্যে “রোগ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।এ অঞ্চলের শিক্ষাবিদ ও সমাজ সচেতন মানুষরা বলছেন—যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, অভিভাবকদের কড়া নজরদারি ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই প্রজন্মকে মোবাইল গেমের মারাত্মক আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।কালিয়া, নড়াইল২৯/১১/২৫ইং০১৭১৬ ৮০২২৩০

ওপেন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোস্তফা কামাল 

কপিরাইট © ২০২৫ ওপেন নিউজ ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত