গাজীপুরের শ্রীপুরে চার বছরের শিশু আনাস খানের নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বিলে কচুরিপানার নিচে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনায় জড়িত প্রতিবেশী গৃহপরিচারিকা শাহিনূর বেগম ওরফে হাসিনা এবং তার প্রেমিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম হাসিনাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করে।
জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে আনাস তার খেলনা সাইকেল নিয়ে প্রতিবেশী নজরুল মোল্লার বাড়িতে যায়। সেখানে শাহিনূর বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ আনাস ঘরে ঢুকে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্য দেখে ফেললে মোমেন ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে গলা টিপে ধরে হত্যা করে। এরপর খাটের নিচ থেকে একটি ধারালো কাঁচি এনে আনাসের চোখে আঘাত করা হয়, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। হত্যার পর দুজন মিলে মরদেহটি বিলে ফেলে দেয়।
শাহিনূর বেগমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিল থেকে আনাসের মরদেহ ও হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর নিহত শিশুর দাদা হাছেন আলী খান বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর হাসিনাকে কারাগারে পাঠানো হয়, এবং পলাতক অবস্থায় থাকা মোমেনকে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন,
“এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। ডিবি পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।”

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ১২ নভেম্বর ২০২৫

আপনার মতামত লিখুন