
ঠাকুরগাঁওয়ে নিভে গেছে সিনেমার আলো
01 Aug 2026, 19:49 · Mustafa Kamal

একসময় ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শক ছুটে আসতেন প্রিয় তারকাদের অভিনয় বড় পর্দায় উপভোগ করতে। টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি, ‘হাউসফুল’ বোর্ড আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল তখনকার পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিবেশ এখন অতীত।জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একসময় মোট ১৬টি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে একটিও সচল নেই। বলাকা, রূপশ্রী, মৌসুমী, আলেয়া, নাজ, মুক্তা, পলাশ, নূর, মডার্ন, পাভেল, পূর্ণিমা ও চাঁদনীসহ পরিচিত হলগুলো বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।বন্ধ হয়ে যাওয়া অধিকাংশ হলের জায়গায় এখন ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শহরের বলাকা সিনেমা হল ভবনে ক্লিনিক নির্মাণ চলছে। অন্যদিকে মৌসুমী সিনেমা হলের ভবন গুদাম হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভবন থাকলেও সেখানে আর সিনেমা প্রদর্শন হয় না।স্থানীয়দের মতে, সিনেমা হল ছিল শুধু চলচ্চিত্র দেখার জায়গা নয়; এটি ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু কিংবা স্বজনদের সঙ্গে একসঙ্গে সিনেমা দেখার যে আনন্দ ছিল, তা বর্তমানের মোবাইল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায় না।প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে করে সিনেমা দেখতে ঠাকুরগাঁওয়ে আসতেন। জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তির দিন টিকিট পাওয়া ছিল বেশ কঠিন। সেই ব্যস্ততা ও উৎসবমুখর পরিবেশ এখন শুধুই স্মৃতির অংশ।সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের মতে, নিম্নমানের চলচ্চিত্র, পুরোনো ও অনুন্নত হল, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং অনলাইনভিত্তিক বিনোদনের প্রসারের কারণে ধীরে ধীরে সিনেমা হলগুলো দর্শকশূন্য হয়ে পড়ে।ঠাকুরগাঁও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বড় পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়নি। মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ সংস্কৃতি আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তা সিনেমা হল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। প্রয়োজনে স্বল্পসুদে ঋণসহ অন্যান্য সহায়তার বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক অবকাঠামো, ভালো মানের চলচ্চিত্র এবং দর্শকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ঠাকুরগাঁওয়ে আবারও সিনেমা হলের পর্দায় আলো জ্বলবে এবং ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।