শ্রীপুরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বরাদ্দের অর্থ তছরূপের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

03 Aug 2026, 18:12 ·



গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয়ে অনিয়ম ও অর্থ তছরূপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই বছর আগে সরকারের বরাদ্দ এলেও এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ডিভাইস বা বরাদ্দের অর্থ প্রদান করা হয়নি। বরং বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হলেও শিক্ষার্থীরা কোনো সুবিধা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, এ ধরনের কোনো বরাদ্দ, ক্রয় বা বিতরণ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়নি।
জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা" কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শ্রীপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয়ে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাগজে-কলমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে ডুমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ফারিয়া (রোল-১৬), নিজ মাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ওমর, উজিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরি এবং পঞ্চম শ্রেণির বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহসিনের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা কেউই পিইডিপি-৪-এর আওতায় কোনো অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বা সরকারি সুবিধা পায়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও দাবি করেছেন যে, এ বরাদ্দ বা ডিভাইস ক্রয়-বিতরণ সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে উপজেলা কমিটির সভা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কমিটির অনেক সদস্যই নিজেদের সদস্য হওয়ার বিষয়টি জানেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, বরাদ্দ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ ব্যয়ের বিবরণ Web-Based Computerized Accounting System-এ অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও সেটি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬-এর আগেই ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিভাইস বিতরণ করা হয়নি।
এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এ বিষয়ে সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি যা করেছি, সবই নিয়মনীতি অনুসরণ করেই করেছি।" তিনি আরও দাবি করেন, "২০২৬ সালে কোনো মালামাল ক্রয় করা হয়নি।"
তবে প্রতিবেদকের কাছে থাকা নথি অনুযায়ী, গাজীপুর সার্জিক্যাল হাউজ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের ২৫৬৬ নম্বর এবং ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ২৫৬৫ নম্বর ভাউচারের মাধ্যমে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয় এবং সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলনের তথ্য উপস্থাপন করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যত বিস্মিত হয়ে পড়েন। এরপর এ বিষয়ে তিনি আর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।