শ্রীপুরে ব্যবসার নামে প্রতারণা: স্বামী ও সহযোগীর বিরুদ্ধে নগদ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ

03 Aug 2026, 11:50 ·





শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ২৪ জুলাই ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে স্ত্রীর ও স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে নেওয়া নগদ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আত্মগোপনের ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ এনেছেন মোছাঃ তাসলিমা (৪০) নামে এক নারী, যিনি অভিযুক্তদের অন্যতম ইয়ারুল পলানের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে তাসলিমার স্বামী মোং ইয়ারুল পলান (৪৫) ও তার সহযোগী মোং ইসলাম প্রামানিক (৪২) তাসলিমার বাড়িতে নিজেদের মালিকানাধীন সরিষার তেল ভাঙানোর মেশিন এনে যৌথ ব্যবসা শুরু করার প্রস্তাব দেন। ব্যবসার প্রাথমিক পুঁজির অজুহাতে তারা প্রথমে তাসলিমার কাছে গচ্ছিত ৬০ হাজার টাকা নেন। পরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে 'হাওলাদ' (ঋণ) হিসেবে আরও ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া তাসলিমার ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ও আংটিও তারা নিজেদের কাছে রাখেন।

গত ১৪ জুলাই বিকেলে অভিযুক্ত ইয়ারুল পলান ও ইসলাম প্রামানিক বাড়ি থেকে ওই ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং তেল ভাঙানোর মেশিনসহ হঠাৎ উধাও হয়ে যান। পরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে যায় তাসলিমা। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, ইসলাম প্রামানিকের সহায়তায় ইয়ারুল পলান পূর্বপরিকল্পিতভাবে সব সম্পদ নিয়ে পালিয়েছেন। অভিযোগকারী তাসলিমা জানান, যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা প্রথমে তালবাহানা করেন, পরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

১ মোং ইয়ারুল পলান (৪৫): পিতা- মৃত ছফুর উদ্দিন, গ্রাম- চিলাশুখানিয়া, ইউনিয়ন- রাজাবাড়ী, থানা- শ্রীপুর, জেলা- গাজীপুর।২. মোং ইসলাম প্রামানিক (৪২): পিতা- মোঃ সপির প্রামানিক, গ্রাম- গুয়াতো, থানা- রানীনগর, জেলা- নওগাঁ; বর্তমান ঠিকানা- কোনাবাড়ী, গাজীপুর।- এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১/২ জনকে এই প্রতারণায় জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর বক্তব্যতাসলিমা জানান, "স্বামী বলে আস্থা রেখেছিলাম। ব্যবসা করবেন বলে টাকা ও গয়না দিয়ে তাঁদের হাতে তুলে দিই। কিন্তু তারা তো আমার ঘরডুবি দিল। এখন আমি অসহায়, পথে বসার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সব কিছু জানেন। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আইন আমাদের ন্যায়বিচার দেবে বলে বিশ্বাস রাখি।"


থানা পুলিশের প্রতিক্রিয়াশ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, "অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
---
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিলাশুখানিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, ইয়ারুল পলান কিছুদিন আগে সরিষার তেলের ব্যবসা শুরু করলেও তার কার্যকলাপ সন্দেহজনক ছিল। তিনি স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবেও টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি গ্রামে আর ফিরে আসেননি। অনেকেই এখন প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলা রেকর্ড করা হবে। তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।