পাবনায় সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ শফিউর রহমান খানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

31 Jul 2026, 21:07 ·

পাবনার আঞ্চলিক সাংবাদিকতার অগ্রদূত, জেলার প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক ইছামতী’ এবং প্রথম সাপ্তাহিক ‘পাবনা বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক শফিউর রহমান খানের (এস. আর. খান) ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শ্রদ্ধাভরে পালিত হচ্ছে। তাঁর প্রয়াণ দিবসে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

​১৯৩১ সালের ২৩ ডিসেম্বর পাবনার বেড়া উপজেলার টাংবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শফিউর রহমান খান। শৈশবের নানাবিধ প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন এবং অত্যন্ত তরুণ বয়সেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’-এর ফরিদপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক সংবাদ এবং দৈনিক আওয়াজ-এর মতো খ্যাতনামা জাতীয় দৈনিকে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন।

​আঞ্চলিক সাংবাদিকতার প্রসারে শফিউর রহমান খানের অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৮০ সালে তিনি প্রকাশ করেন পাবনা জেলার প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘পাবনা বার্তা’। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের জুলাইয়ে তাঁর হাত ধরেই প্রকাশিত হয় ‘দৈনিক ইছামতী’, যা পাবনা জেলার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে স্থান করে নেয়।

​সাংবাদিকতার পাশাপাশি শফিউর রহমান খান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, পাবনা জেলা শাখা এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, পাবনা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

​'এস. আর. খান' ছদ্মনামে নিয়মিত লেখালেখি করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব তাঁর অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে 'যমুনা সাহিত্য পুরস্কার', ১৯৯২ সালে পাবনা জেলা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'ভাস্কর' উপাধি এবং ১৯৯৪ সালে 'উত্তরণ পুরস্কার'-এ ভূষিত হন।

​নীতিবান, সাহসী এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সমকালীন প্রেক্ষাপটে শফিউর রহমান খান পাবনার সংবাদ জগতে এক অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে আছেন। তাঁর ২৫তম প্রয়াণ দিবসে পাবনার সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।