
মাদকসেবী নায়েব ও দালাল উমেদারের দুর্নীতির ‘অভয়ারণ্য’: ভূমি অফিসেই ঘুষ–চিল্লাচিল্লি, উধাও ১৫ লাখ!
03 Aug 2026, 04:55 ·

জনাব তারেক রহমান সরকার যখন সারাদেশে মাদক ও ধূমপান নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করছে, তখন ঠিক সেই একই সময়ে সনমানিয়া ভূমি অফিসের এক নায়েব খবির নিজ অফিসকক্ষেই উমেদার অহিদকে কোলে নিয়ে ঘুষের কন্টক হিসাব করছেন, আর দু'জনে মিলে সিগারেট ও গাঁজায় মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই চিত্রকে ‘সরকারি অফিসেই দুর্নীতির অভয়ারণ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উমেদার অহিদ দীর্ঘ ১৮-২০ বছর ধরে সনমানিয়া ভূমি অফিসে দালালি ও উমেদারগিরি করেন। এই অহিদের আর্থিক উত্থান যেন এক রূপকথার গল্প! যিনি একসময় বাজারে বাজারে হকারি করে শ্রীপুরী-বড়ি এবং পানিতে আলতা মিশিয়ে রঙিন শরবত বিক্রি করতেন, সেই মানুষটি আজ ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ২.৫ থেকে ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাটবাড়ির মালিক। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন— এই বিপুল সম্পদ তিনি কীভাবে অর্জন করলেন? কোন শিল্প বা ব্যবসায় তার এই উত্থান? উত্তরে তারা বলেন, “ভূমি অফিসের দালালি আর নায়েবের চক্রান্তেই এই টাকার জোগান।”
তবে এখানেই শেষ নয়। অহিদ এবার তার স্ত্রীকে সনমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী করতে চলেছেন। তাঁর পরিকল্পনা— প্রায় দুই কোটি টাকার বাজেট নিয়ে এই নির্বাচনী মাঠে নামবেন তিনি। এলাকাবাসী জানতে চাইছেন, যে অহিদ দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুষখোরি ও দালালি করেন, তাঁর স্ত্রীর নির্বাচনী তহবিলের উৎসই বা কোথায়? সনমানিয়ার সাধারণ মানুষ এই অর্থের উৎস নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে কাপাসিয়ার রাসেল মোক্তারের ঘটনায়। অভিযোগ, আড়ালবাজারে ভিটি (জমি) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অহিদ ও নায়েব খবির রাসেল মোক্তারের কাছ থেকে ১৪/১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে তারা এই টাকা দিয়ে কোনো কাজ করেছেন, না টাকা ফেরত দিচ্ছেন। বারবার টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং ভুক্তভোগী রাসেল মোক্তারকে হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এই ব্যাপারে রাসেল মোক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, *“আমি বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না, উল্টো আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। নায়েব সাহেব তো অফিসে বসেই মাদক সেবন করেন, তিনি আবার আইনের রক্ষক!
এদিকে এই দুর্নীতি ও অরাজকতা কারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো হলেও কেউ দেখতে চাইছে না। ভূমি অফিসের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, এমনকি থানা পুলিশও কাগজে-কলমে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন। কিন্তু সনমানিয়ার মানুষ বলছেন, এটাই দুর্নীতির অভয়ারণ্য, যেখানে নায়েব ও উমেদার মিলে রাজত্ব করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নায়েব খবির দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসে কর্মরত। তিনি ওই অফিসের বিভিন্ন ফাইলের মাধ্যমে দালালি, জাল জমির দলিল ও নামজারি বাণিজ্য করে আসছেন। তাঁর সহযোগী অহিদ এই কাজে তাঁর হাতের ‘পঞ্চাশ হাত’ হিসেবে কাজ করেন। একে অপরকে তারা ‘মামা-ভাগনে’ সম্বোধন করে থাকেন, যা এলাকায় সবার জানা।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন তৈরির সময় নায়েব খবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং উমেদার অহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সনমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটা দীর্ঘদিনের ব্যাপার। কেউ কথা বলতে চায় না, কারণ তাঁরা দু’জনেই ক্ষমতাশালী। তবে এবার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসায় আমরা চাপ প্রয়োগ করবো প্রশাসনের ওপর।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও ভুক্তভোগীরা এখন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—
নায়েব খবিরের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। উমেদার অহিদের অবৈধ সম্পদ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা।** . রাসেল মোক্তারের ১৫ লাখ টাকা ফেরত প্রদানে নায়েব-অহিদকে বাধ্য করা।